উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: লাদাখের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার জন্য সরাসরি সোনম ওয়াংচুককে দায়ি করল কেন্দ্র (Centre On Ladakh)। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ‘এই পরিস্থিতি ইচ্ছাকৃতভাবে তৈরি করা হয়েছে। লাদাখের তরুণ জনগোষ্ঠীকে কিছু ব্যক্তির সংকীর্ণ রাজনীতি এবং সোনম ওয়াংচুকের ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার জন্য বিশাল মূল্য দিতে হচ্ছে। সরকারি সূত্রের দাবি, যা ঘটেছে তার জন্য লাদাখের তরুণদের দোষ দেওয়া যায় না, কারণ তাদেরকে বিপথগামী করা হয়েছে। রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত লাভের জন্য তাঁরা বিভ্রান্ত হয়ে একটি অশুভ চক্রান্তে আটকা পড়েছে। পাশাপাশি লাদাখের জনগণের কল্যাণ ও ক্ষমতায়নের জন্য কেন্দ্র যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সেকথাও মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রশাসিত লাদাখকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভকারীরা বুধবার পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে পড়েন। যার ফলে চারজন নিহত হয়। ২২ জন পুলিশ কর্মী সহ কমপক্ষে ৪৫ জন আহত হন। এই ঘটনার পর লাদাখকে পূর্ণ রাজ্য ঘোষণা সংবিধানের অধীনে ষষ্ঠ তফসিল সম্প্রসারণের দাবিতে ১০ সেপ্টেম্বর থেকে অনশন চালিয়ে আসা সোনম ওয়াংচুক তাঁর অনশন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। পাশাপাশি শান্তির আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। যদিও কেন্দ্র ইতিমধ্যেই ৬ অক্টোবর অ্যাপেক্স বডি অফ লেহ (এবিএল) এবং কার্গিল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (কেডিএ) কর্তৃক প্রস্তাবিত বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনার জন্য উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির বৈঠকের দিন নির্ধারণ করেছে। উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির জন্য নতুন সদস্যদের অন্তর্ভূক্তির ক্ষেত্রে অ্যাপেক্স বডি অফ লেহ-র দাবির বিষয়েও একমত হয়েছে। কেন্দ্রের দাবি, যখন আলোচনা শুরু হয়ে গেছে, তখন আন্দোলন উসকে দেওয়া হল।
লাদাখের লেফটেন্যান্ট গভর্নর কবিন্দর গুপ্ত বলেন, ‘জনতা কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের গাড়ির ভিতরে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করেছিল। স্থানীয় বিজেপি অফিসে আগুন লাগানো হয়।’ যদিও সোনম ওয়াংচুক বলেন, ‘ “আমি লাদাখের যুবকদের অবিলম্বে হিংসা বন্ধ করার জন্য অনুরোধ করছি কারণ এটি কেবল আমাদের লক্ষ্যের ক্ষতি করছে এবং পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাচ্ছে। আমরা লাদাখ এবং দেশে অস্থিতিশীলতা চাই না।’
