উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ইরান থেকে ছোড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আর মুখ বুজে সহ্য করা হবে না—তেহরানকে এই ভাষাতেই কড়া হুঁশিয়ারি দিল সৌদি আরব (Center East Warfare)। সংবাদসংস্থা রয়টার্স সূত্রে খবর, সৌদি আরবের বিদেশমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান সম্প্রতি ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে কথা বলার সময় স্পষ্ট জানিয়েছেন, পুনরায় সৌদি আরবের ওপর আঘাত আসলে তাঁরা সরাসরি যুদ্ধে যোগ দেবেন এবং প্রত্যাঘাত করবেন।
রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, সৌদি আরব স্পষ্ট করেছে যে তারা আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের একটি কূটনৈতিক সমাধান চায়। এই কাজে রিয়াধ সবরকম সাহায্য করতে প্রস্তুত। তবে সৌদি বিদেশমন্ত্রী মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, ইরান বা আমেরিকার সংঘাতের জন্য উপসাগরীয় দেশগুলো নিজেদের আকাশসীমা বা ভূমি ব্যবহার করতে দেয়নি। এরপরেও যদি ইরান সৌদি আরবকে নিশানা করে, তবে রিয়াধ বাধ্য হয়ে আমেরিকাকে তাদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেবে এবং নিজেরাও পাল্টা আঘাত হানবে।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে। এই ঘটনার পর থেকেই রিয়াধ ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা চললেও উত্তাপ কমেনি। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের বার্তা দিয়েছেন।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে শনিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, অন্য কোনো দেশ থেকে আঘাত না আসলে ইরান পশ্চিম এশিয়ার আর কোনো দেশে হামলা করবে না। তবে আমেরিকার সামনে মাথা নত করতে নারাজ তেহরান। ট্রাম্পের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’-এর দাবির জবাবে পেজেশকিয়ান সাফ জানিয়েছেন, এই স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে যাবে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ সমীকরণ আরও জটিল হয়ে উঠল।
