উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ ইরান ও আমেরিকার (Iran-USA Battle) মধ্যে ঘনীভূত হওয়া চরম উত্তেজনার আবহে বড়সড় পদক্ষেপ নিল ভারত। দু’দিনের সফরে গুজরাট, রাজস্থান, পুদুচেরি, তামিলনাড়ু সফর সেরে রবিবার রাতে দিল্লি ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী। রাত সাড়ে ৯টায় দিল্লিতে তাঁর বিমান অবতরণ করার কথা। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, দিল্লিতে ফিরেই মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা কমিটির বৈঠকে যোগ দেবেন মোদি (Cupboard Committee on Safety – CCS)। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার ফলে সেখানে আটকে পড়া লক্ষ লক্ষ ভারতীয়দের নিরাপত্তা এবং দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলাই এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য (CCS Assembly India)।
যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব: ভারতের উদ্বেগ
১ মার্চ ২০২৬, রবিবার রাত সাড়ে ৯টায় প্রধানমন্ত্রীর বিমান দিল্লি অবতরণ করার কথা। সরকারি সূত্রের খবর, বিমানবন্দর থেকে সরাসরি তিনি সাউথ ব্লকে বৈঠকে যোগ দেবেন। এই বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং, বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন উপস্থিত থাকবেন।
বৈঠকের প্রধান তিনটি আলোচ্য বিষয়:
- অপারেশন ‘ঘরে ফেরা’: ইরান, ওমান এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে কয়েক হাজার ভারতীয় ছাত্র ও পেশাদার আটকে রয়েছেন। আকাশপথ ও সমুদ্রপথের বর্তমান পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে তাঁদের নিরাপদে উদ্ধারের জন্য একটি বিশদ ‘ইভ্যাকুয়েশন প্ল্যান’ চূড়ান্ত করা হতে পারে।
- জ্বালানি নিরাপত্তা ও হরমুজ প্রণালী: বিশ্বের মোট রফতানিযোগ্য তেলের এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। তেহরান এই পথ বন্ধ করার হুঁশিয়ারি দেওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়ানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভারত তার প্রয়োজনীয় তেলের প্রায় ৮০ শতাংশই আমদানি করে, ফলে এই অবরোধ দেশের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিতে পারে।
- কূটনৈতিক অবস্থান: এই সংকটে ভারতের নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখে কীভাবে পরিস্থিতি শান্ত করা যায়, তা নিয়েও আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিমানের উড়ান বাতিল
ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ এড়িয়ে চলার জন্য ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ দুপুর পর্যন্ত এয়ার ইন্ডিয়া ও ইন্ডিগো সহ বিভিন্ন সংস্থার প্রায় ৩৫০টি আন্তর্জাতিক উড়ান বাতিল করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রের ওপর দিয়ে বিমান চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব
পেট্রোপণ্যের দাম বৃদ্ধি পেলে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। কেন্দ্র সরকার ইতিমধ্যে তেলের মজুত ভাণ্ডার (Strategic Petroleum Reserve) ব্যবহারের বিকল্প নিয়েও চিন্তা শুরু করেছে।
রবিবার রাতের এই বৈঠকের পরেই কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে বিশেষ নির্দেশিকা জারি করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
