উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta Excessive Courtroom) মুখ পুড়ল রাজ্যের। ‘শিক্ষামিত্র’ (Shikshamitra) নিয়ে রাজ্যের আবেদন খারিজ করে দিল ডিভিশন বেঞ্চ। শুক্রবার বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা এবং বিচারপতি অজয়কুমার গুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানাল, ‘শিক্ষকদের মতো শিক্ষামিত্রদেরও কাজ করার অধিকার রয়েছে ৬০ বছর পর্যন্ত। তাদের যে বকেয়া বেতন পাওনা রয়েছে সবটা মিটিয়ে দিয়ে শিক্ষামিত্রদের কাজে ফেরাতে হবে।’
শিক্ষামিত্র কারা? তাদের কাজই বা কী ছিল? ২০০৪ সাল, সর্বশিক্ষা মিশনের অধীনে নিয়োগ করা হয়েছিল ‘শিক্ষামিত্রদের।’ তাদের কাজ ছিল, পিছিয়ে পড়া এবং স্কুলছুট ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়ার জীবনে ফিরিয়ে আনা। এই কাজের জন্য তাদের প্রতিমাসে মাইনে দেওয়া হত ২৪০০ টাকা।
২০১৩ সালে ‘শিক্ষামিত্রদের’ পদ পরিবর্তন করে রাজ্যের পক্ষ থেকে তাঁদের ‘স্বেচ্ছাসেবক’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সঙ্গে এও বলা হয় ৬০ বছরের আগেই তাদের চাকরি থেকে অবসর নিতে হবে। বন্ধ করে দেওয়া হয় তাদের বেতন। রাজ্যের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে মামলা করেন শিক্ষামিত্রদের একাংশ। ২০২৩ সালের ২৬ এপ্রিল রাজ্যের আবেদন খারিজ করে দেয় বিচারপতি রবীন্দ্রনাথ সামন্তের বেঞ্চ। এরপর সিঙ্গল বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে যায় রাজ্য। এদিন ডিভিশন বেঞ্চের দুই বিচারপতির রাজ্যের আবেদন খারিজ করে স্পষ্ট জানায়, ‘শিক্ষামিত্ররা’ ৬০ বছর পর্যন্ত চাকরি করতে পারবেন এবং তাদের যে বেতন আটকে রয়েছে, তা দ্রুত ফিরিয়ে দিতে হবে রাজ্যকে।’
