বর্ধমানঃ এক মাস আগে ঠাকুরমার মৃত্যু হয়েছিল ভুল চিকিৎসায়, সেই আক্রোশেই চেম্বারে ঢুকে এক হাতুড়ে ডাক্তারকে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে (Burdwan Homicide Case)। মঙ্গলবার সকালে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বর্ধমান শহরের বাদামতলা এলাকায়। খুনের পর রক্তমাখা কাটারি নিয়ে সরাসরি বর্ধমান থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করে অভিযুক্ত যুবক।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত চিকিৎসকের নাম রাজা ভৌমিক (৪৫)। তাঁর বাড়ি শহরের বাবুরবাগ এলাকায়। গত দু’বছর ধরে তিনি বাদামতলা মোড়ে একটি চেম্বার চালাতেন। অভিযুক্ত যুবকের নাম জীবন রুইদাস, সে শক্তিগড়ের আমড়া গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার সকাল ১০টা নাগাদ রাজা ভৌমিক তাঁর চেম্বার খোলেন। কিছুক্ষণ পরেই ব্যাগে কাটারি লুকিয়ে সেখানে ঢোকে জীবন। ডাক্তারবাবু কিছু বুঝে ওঠার আগেই কাটারি দিয়ে তাঁর মাথায় এলোপাতাড়ি কোপ মারতে শুরু করে সে। চেম্বারের ভেতরেই রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন রাজা বাবু। জনবহুল এলাকা হওয়া সত্ত্বেও কেউ টের পাওয়ার আগেই এই নৃশংসতা ঘটিয়ে জীবন সরাসরি থানায় চলে যায়। সে খুনের কথা কবুল করার পর পুলিশ তাকে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং দেহ উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে, জীবন রুইদাসের ঠাকুরমা মাসখানেক আগে মারা যান। জীবনের দাবি, রাজা ভৌমিকের ভুল চিকিৎসার কারণেই তাঁর ঠাকুরমার মৃত্যু হয়েছিল। সেই ক্ষোভ থেকেই খুনের পরিকল্পনা করে সে। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অর্ক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “অভিযুক্ত নিজেই থানায় এসে ধরা দিয়েছে। এটি পরিকল্পিত খুন নাকি এর পেছনে কোনো মানসিক বিকার রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” নিহতের পরিবারে দুই সন্তান রয়েছে, কাকার অকাল মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ ভাইপো আকাশ ভৌমিক সহ গোটা পরিবার।
