উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের বারুদের গন্ধ এবার বিশ্ব অর্থনীতিতে বড়সড় আঘাত হানল। ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। রবিবার ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম ব্রেন্ট ক্রুড ওয়েলের (Brent Crude Oil) দাম ১০০ ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়ে ১০৪ ডলার স্পর্শ করল। আমেরিকার ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটও (WTI) ১৯ শতাংশ বেড়ে প্রায় ১০৮ ডলারে পৌঁছে গিয়েছে।
তেল বাজারের ইতিহাসে ১৯৮৩ সালে ফিউচার ট্রেডিং শুরু হওয়ার পর গত এক সপ্তাহে মার্কিন ক্রুড অয়েলের দাম প্রায় ৩৫ শতাংশ বেড়েছে, যা এক কথায় ঐতিহাসিক। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল উৎপাদন ও পরিবহণ ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে।
ওপেক (OPEC)-এর পঞ্চম বৃহত্তম উৎপাদক দেশ কুয়েত ইতিমধ্যেই তাদের রিফাইনারি ও তেল উৎপাদনের কাজ কমাতে শুরু করেছে। তাদের আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালীতে ইরান যেভাবে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে হুমকি দিচ্ছে, তাতে ঝুঁকি নেওয়া সম্ভব নয়। অন্যদিকে, যুদ্ধের জেরে ইরাকের তেল উৎপাদনও ভয়াবহভাবে কমেছে। দৈনিক ৪৩ লক্ষ ব্যারেল উৎপাদনের জায়গায় বর্তমানে তা মাত্র ১৩ লক্ষ ব্যারেলে এসে ঠেকেছে। আবু ধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানিও (ADNOC) উৎপাদন নিয়ন্ত্রণে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহণ করা হয় এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অধিকাংশ তেলবাহী জাহাজ এই পথ এড়িয়ে চলায় বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। ফলে একদিকে তেলের মজুত বাড়ছে, অন্যদিকে গন্তব্যে পৌঁছানোর মতো জাহাজের আকাল দেখা দিয়েছে।
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে যুদ্ধ প্রায় শেষ পর্যায়ে, তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা অতটা আশাবাদী হতে পারছেন না। মার্কিন প্রশাসনের মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লেগে যেতে পারে। আপাতত তেলের এই চড়া দাম বিশ্ববাজারের মুদ্রাস্ফীতিকে আরও উসকে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
