উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বৃহস্পতিবারের রেশ কাটতে না কাটতেই শুক্রবার ফের রাজ্যজুড়ে বোমাতঙ্ক। নিশানায় জেলাশহরগুলোর প্রধান ডাকঘর বা পোস্ট অফিস। শুক্রবার সকাল থেকেই হাওড়া, আসানসোল, বাঁকুড়া, কাটোয়া এবং কোচবিহারের মুখ্য ডাকঘরগুলোতে একের পর এক হুমকি (Bomb Menace) ইমেল আসায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
হুমকি মেলের নেপথ্যে ‘জিহাদ’:
জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকালে সংশ্লিষ্ট ডাকঘরগুলোর (Put up Workplace) অফিশিয়াল ইমেলে একটি বার্তা আসে। সেখানে স্পষ্ট লেখা ছিল, সকাল ১১টার মধ্যে অফিস ফাঁকা করে দিতে হবে। হুমকি বার্তায় আরও উল্লেখ করা হয়, “পবিত্র শুক্রবারই আসল জিহাদ।” এই নির্দিষ্ট শব্দবন্ধটি সামনে আসতেই প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। বিষয়টির গুরুত্ব বুঝে তড়িঘড়ি পদক্ষেপ নেয় পুলিশ প্রশাসন।
যুদ্ধকালীন তৎপরতায় তল্লাশি:
হুমকি মেল পাওয়া মাত্রই জেলা সদরগুলোর ডাকঘর ফাঁকা করে দেওয়া হয়। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে কর্মী—সবাইকে দ্রুত নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বম্ব স্কোয়াড ও বিশাল পুলিশ বাহিনী। মেটাল ডিটেক্টর ও স্নিফার ডগ দিয়ে প্রতিটি কোণ তল্লাশি করা হচ্ছে। কোচবিহারের (Cooch Behar) মুখ্য ডাকঘরে বৃহস্পতিবারও একই ধরনের আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। শুক্রবার দুপুর ১২টা নাগাদ সেখানে ফের তল্লাশি শুরু হয়। কোতয়ালি থানার পুলিশ গোটা চত্বরটি ঘিরে ফেলে পরীক্ষা চালাচ্ছে।
জনসাধারণের ভোগান্তি ও নিরাপত্তা:
পোস্ট অফিসগুলো হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। সঞ্চয় প্রকল্প থেকে শুরু করে চিঠিপত্র ও পার্সেল পরিষেবার কাজ থমকে যায়। তবে নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে নারাজ প্রশাসন। পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা জানিয়েছেন, ইমেলটির উৎস কোথায় এবং এর পেছনে কোনো নাশকতামূলক ছক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বারবার বিভিন্ন জেলাতে একই ছকে হুমকি দেওয়ায় এটি কোনো বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দা বিভাগ। তবে এখনও পর্যন্ত কোথাও কোনো সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া না গেলেও তৎপর রয়েছে প্রশাসন।
