কোচবিহার: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে কোচবিহারের পুণ্যভূমি থেকে ‘পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা’র (BJP Parivartan Yatra) ডাক দিল ভারতীয় জনতা পার্টি। রবিবার কোচবিহারের রাসমেলা ময়দানে এক বিশাল জনসভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের অপশাসনের অবসান ঘটানোর শপথ নিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্বরা।
দুবার হোলির ডাক ও মমতাকে আক্রমণ: এদিন বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ হেলিকপ্টারে কোচবিহার পৌঁছে সড়কপথে সভাস্থলে আসেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন (Nitin Nabin)। তাঁর ১৬ মিনিটের ভাষণে আগাগোড়া আক্রমণাত্মক মেজাজে পাওয়া যায় তাঁকে। কর্মীদের উজ্জীবিত করতে নীতিন বলেন, “এবার দুবার হোলি হবে। একবার ৪ মার্চ, আর দ্বিতীয়বার বিজেপি জেতার পর।” মা-মাটি-মানুষের স্লোগানকে কটাক্ষ করে তিনি দাবি করেন, রাজ্যের মহিলাদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ মুখ্যমন্ত্রী। অনুপ্রবেশকারীদের সুবিধা দিতে রাজ্য সরকার কাঁটাতারের বেড়া দিতে জমি দিচ্ছে না বলেও তিনি অভিযোগ তোলেন।
ভোট পিছোনোর জল্পনা: এদিনের মঞ্চ থেকে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দাবিটি করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। ভোটার তালিকায় লক্ষ লক্ষ নাম ‘বিচারাধীন’ অবস্থায় থাকায় তিনি ‘নো এসআইআর নো ভোট’ (No SIR No Vote) স্লোগান তোলেন। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি বিজেপি রাজ্যে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার কৌশল নিচ্ছে? শমীকের এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে।
যাত্রার সূচনা ও যান্ত্রিক বিভ্রাট: এদিন মদনমোহন মন্দিরে পুজোর মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হলেও প্রথম দিন ট্যাবলোর চাকা গড়াতে পারেনি। সবকটি ট্যাবলো নির্দিষ্ট সময়ে এসে না পৌঁছানোয় আজ যাত্রা শুরু করা যায়নি। দলীয় নেতৃত্ব জানিয়েছেন, আগামী ৫ মার্চ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সংকল্প যাত্রা পরিক্রমা শুরু করবে।
নিরাপত্তা ও জনসমাগম: আদালতের অনুমতি নিয়ে আয়োজিত এই সভায় পুলিশের উপস্থিতি ছিল নামমাত্র। বিজেপির নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবকদেরই ভিড় সামলাতে দেখা যায়। সভার শুরুতে ভাওয়াইয়া শিল্পী মনীন্দ্র বর্মনের গান স্থানীয় কর্মীদের মধ্যে আলাদা উদ্দীপনা তৈরি করে। কোচবিহারের ঐতিহ্য ও রাজবংশী সংস্কৃতির কথা উল্লেখ করে নীতিন নবীন রাজ্যের উন্নয়নে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের প্রয়োজনীয়তার কথা পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেন।
