নাগরাকাটা: রবিবাসরীয় ডুয়ার্সে গেরুয়া ঝড়ের ইঙ্গিত দিয়ে জেলায় প্রবেশ করল বিজেপির ‘পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা’ (BJP Parivartan Sankalp Yatra)। নাগরাকাটা থেকে ময়নাগুড়ি— মাইলের পর মাইল রথযাত্রায় একদিকে যেমন ছিল আদিবাসী সংস্কৃতির ছোঁয়া, অন্যদিকে ছিল একগুচ্ছ জনমোহিনী প্রতিশ্রুতির বন্যা। বিহারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী থেকে শুরু করে মনোজ টিগ্গাদের বক্তব্যে এদিন উঠে এল উত্তরবঙ্গের বঞ্চনা আর পরিবর্তনের অঙ্গীকার।
উন্নয়নের ‘মাস্টারস্ট্রোক’: ৫০ হাজার কোটি ও বিকল্প বাঘপুল
মৌলানির হরিসেবায় জনসভায় সম্রাট চৌধুরী ঘোষণা করেন, বিজেপি বাংলায় ক্ষমতায় আসলে উত্তরবঙ্গের সামগ্রিক উন্নয়নে ৫০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হবে। তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করে তিনি বলেন, “মাদ্রাসার জন্য ৬ হাজার কোটি টাকা থাকলেও চা শ্রমিকদের জন্য রাজ্য সরকারের টাকা নেই।” ব্রিটিশ আমলের সেবকের ‘বাঘপুল’-এর জরাজীর্ণ অবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, বিজেপি সরকার ইতিমধ্যেই বিকল্প সেতু নির্মাণের অর্থ বরাদ্দ করেছে এবং শীঘ্রই কাজ শুরু হবে।
চাকরি ও ডিএ-র ডেডলাইন
নাগরাকাটার সভা থেকে আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিগ্গা সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড় ঘোষণা করেন। তিনি জানান, বিজেপি সরকার গঠনের মাত্র ৪৫ দিনের মধ্যে কেন্দ্র সরকারের হারে ডিএ এবং সপ্তম পে কমিশন চালু করা হবে। শুধু তাই নয়, ১০০ দিনের মধ্যে রাজ্যের সমস্ত শূন্য পদে নিয়োগ সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। নারীদের স্বনির্ভর করতে রাজ্যজুড়ে ৫৭০০ কোটি টাকার বিশেষ প্যাকেজের কথাও পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেন বিজেপি নেতারা।
আদিবাসী আবেগ ও আরজি কর প্রসঙ্গ
সন্দেশখালি ও আরজি কর-এর ঘটনাকে হাতিয়ার করে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সরব হন সম্রাট চৌধুরী। আদিবাসী সাংসদ খগেন মুর্মুর ওপর হামলার প্রসঙ্গ তুলে মনোজ টিগ্গা অভিযোগ করেন, ‘তৃণমূল আদতে ‘আদিবাসী বিরোধী’। রাজবংশী, গোর্খা ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের ভাবাবেগকে ছুঁয়ে এদিন বিজেপি নেতারা দাবি করেন, একমাত্র বিজেপিই পারে বাংলার হারানো গৌরব ফেরাতে। শহর জুড়ে পুলিশের কড়া প্রহরা থাকলেও বিজেপি কর্মীদের উদ্দীপনা ছিল তুঙ্গে। রথ বানারহাট ও চালসা হয়ে ময়নাগুড়ি পৌঁছালে মিছিলে পা মেলান ফালাকাটার বিধায়ক দীপক বর্মন ও সাংসদ জয়ন্ত রায়।
