উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের (WB Election 2026) রণভেরি বাজিয়ে দিল বঙ্গ বিজেপি (West Bengal BJP)। কলকাতা হাইকোর্টের শর্তসাপেক্ষ অনুমতি মেলার পরেই শুক্রবার এক হাই-ভোল্টেজ সাংবাদিক বৈঠকে ‘পরিবর্তন যাত্রা’র (BJP Paribartan Yatra 2026) আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং সুকান্ত মজুমদার। শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, একে ‘হৃত গৌরব উদ্ধারের লড়াই’ বলে ব্যাখ্যা করেছে গেরুয়া শিবির। এদিন যাত্রার টিজারও লঞ্চ করা হয় বিজেপির পক্ষ থেকে।
আদালতের গণ্ডি ও রণকৌশল
হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনোভাবেই ১০০০-এর বেশি মানুষের জমায়েত করা যাবে না এবং যানজট সৃষ্টি করা চলবে না। এই আইনি সীমাবদ্ধতাকে মাথায় রেখেই বিজেপি ১ ও ২ মার্চ থেকে ৯টি ভিন্ন রুট দিয়ে যাত্রা শুরুর পরিকল্পনা করেছে। কোচবিহার থেকে রায়দিঘি, আর সন্দেশখালি থেকে আমতা— ৫ থেকে ১০ মার্চের মধ্যে প্রায় ৫০০০ কিলোমিটার পথ পরিক্রমা করবে এই যাত্রা। যার সমাপ্তি হতে পারে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এক বিশাল জনসভায়। এদিন তৃণমূল ও রাজ্য সরকারকে ত্রিমুখি আক্রমণ করেন বিজেপি নেতারা।
রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বর্তমান প্রশাসনকে ‘জীবন্ত জীবাশ্ম’ আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেন, রাজ্যের পরিবেশ ও কর্মসংস্থান দুইই শাসকদলের দুর্নীতির বলি হয়েছে। হতাশ তৃণমূল কর্মী ও বাম-কংগ্রেস সমর্থকদেরও এই আন্দোলনে সামিল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সুর চড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, রাজ্যে জনসংখ্যার ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং জঙ্গিদের ভোটার কার্ড তৈরি হচ্ছে। তাঁর মতে, বাংলা জয় ছাড়া দেশের রাজনৈতিক লড়াই অসম্পূর্ণ। সুকান্ত মজুমদার ভোট লুট ও গণনায় কারচুপির আশঙ্কা দূর করতেই এই যাত্রা সাধারণ মানুষের মনে সাহস জোগাবে বলে দাবি করেন। রাজ্যের ২৯টি বিধানসভা কেন্দ্রে বিশেষ ট্যাবলো এবং ৩০০-র বেশি সভার মাধ্যমে তৃণমূলের দুর্নীতির খতিয়ান আমজনতার দুয়ারে পৌঁছে দেওয়াই এখন বিজেপির মূল লক্ষ্য।
