উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ বর্ষশেষের মুখে বড়সড় রেল দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল বিহার। শনিবার রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ বিহারের শিমুলতলা স্টেশনের কাছে তেলিয়াবাজার এলাকায় একটি সিমেন্টবোঝাই মালগাড়ি লাইনচ্যুত হয়ে উল্টে যায়। দুর্ঘটনার তীব্রতা এতটাই ছিল যে, মালগাড়িটির বেশ কয়েকটি কামরা রেল সেতুর ওপর থেকে সরাসরি নিচে বরুয়া নদীতে পড়ে যায়। বাকি কামরাগুলি পাশের লাইনে উল্টে পড়ায় হাওড়া-নয়াদিল্লি মেন লাইনে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।
দুর্ঘটনার বিবরণ: রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, সিমেন্টবোঝাই ওই মালগাড়িটি জসিডি থেকে ঝাঝার দিকে যাচ্ছিল। তেলিয়াবাজার হল্ট স্টেশনের কাছে ৬৭৬ নম্বর সেতুর ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় আচমকাই সেটি লাইনচ্যুত হয়। সেতুর ওপর থেকে মালগাড়ির বগিগুলি খেলনার মতো ছিটকে পড়ে বরুয়া নদীর জলে। বরাতজোরে বেঁচে যায় দুর্ঘটনাগ্রস্ত মালগাড়িটির ঠিক পিছনেই আসা ডাউন পূর্বাঞ্চল এক্সপ্রেস। মালগাড়িটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ামাত্রই চালকের তৎপরতায় পূর্বাঞ্চল এক্সপ্রেসকে মাঝপথেই থামিয়ে দেওয়া হয়, ফলে বড়সড় প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছেন যে, এই দুর্ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।
ট্রেন চলাচলে প্রভাব: এই দুর্ঘটনার জেরে হাওড়া-নয়াদিল্লি মেন লাইনে ট্রেন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিভূতি এক্সপ্রেস, পূর্বা এক্সপ্রেস-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দূরপাল্লার ট্রেনকে মেন লাইনের পরিবর্তে গয়া-ধানবাদ কর্ড লাইন দিয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে বছরের শেষে বাড়ি ফেরা বা ভ্রমণে বেরোনো যাত্রীরা চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। অনেক ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে রয়েছে।
উদ্ধারকাজ ও রেলের তৎপরতা: পূর্ব-মধ্য রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় লাইন পরিষ্কারের কাজ শুরু হয়েছে। উদ্ধারকাজে গতি আনতে আসানসোল, ঝাঝা এবং মধুপুর থেকে মোট তিনটি ‘রিলিফ ট্রেন’ অকুস্থলে পাঠানো হয়েছে। রেলের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। তবে কামরাগুলি নদীর জলে পড়ে যাওয়ায় এবং অন্য লাইনে উল্টে থাকায় পরিষেবা পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগবে বলে মনে করা হচ্ছে।
