বেঙ্গালুরু: ‘এমন তো কতই হয়!’ নয়ের দশকে বানতলা যৌন হয়রানির ঘটনায় এরকম মন্তব্য করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল বাংলার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী প্রয়াত জ্যোতি বসুকে। এবার একই ধরনের ‘অবিবেচক’ মন্তব্য করে ফেঁসে গেলেন দাক্ষিণাত্যের এক মন্ত্রী।
বেঙ্গালুরুর (Bengaluru Molestation) রাস্তায় এক মহিলার শ্লীলতাহানির ঘটনায় মুখ খুলে বিপাকে পড়লেন কর্ণাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জি পরমেশ্বর (G. Parameshwara)। সোমবার তিনি বলেন, ‘এরকম ঘটনা বড় শহরে ঘটেই। পুলিশ কমিশনারকে প্রতিদিন বলে থাকি, সব জায়গায় নজরদারি চালাতে, টহলদারি বাড়াতে। পুলিশ দিনরাত কাজ করছে। এই ধরনের কিছু ঘটনা এদিক-ওদিক ঘটবেই। আইন অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নেব। আজ সকালেও কমিশনারের সঙ্গে কথা হয়েছে।’
বিজেপির মুখপাত্র প্রশান্ত জি বলেন, ‘এ একেবারে অমানবিক বক্তব্য। তিনি কি তবে যৌন হেনস্তাকে স্বাভাবিক বলে মেনে নিচ্ছেন? দায়িত্ব এড়াতে চাইছেন?’ বিজেপি বিধায়ক ও প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী অশ্বত্থ নারায়ণের কথায়, ‘এই ঘটনা লজ্জাজনক তো বটে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য আরও লজ্জাজনক। এতে মানুষের আত্মবিশ্বাস আরও কমে যাবে।’
অভিযোগ, গত ৩ এপ্রিল সকালে বেঙ্গালুরুতে প্রকাশ্য রাস্তায় এক তরুণীর শ্লীলতাহানি করেন এক ব্যক্তি। ওই ঘটনার একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, বেঙ্গালুরুর সুদ্দাগুন্তেপালিয়ার কাছে এক তরুণীকে আপত্তিজনকভাবে স্পর্শ করছেন এক ব্যক্তি। সেই সময় তরুণীর সঙ্গে তাঁর এক বান্ধবীও ছিলেন। তাঁদের একজনকে ধাক্কা মেরে দেওয়ালের দিকে ঠেলে দেন ওই ব্যক্তি। তারপর তাঁকে আপত্তিজনকভাবে স্পর্শ করেন। ভিডিওটি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শোরগোল শুরু হয়। এরপর পরমেশ্বরের অসংবেদনশীল মন্তব্য জনরোষ আরও বাড়িয়ে দেয়।
বেগতিক দেখে বেঙ্গালুরু পুলিশকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন পরমেশ্বর। এরপর স্বতঃপ্রণোদিতভাবে মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে বেঙ্গালুরু পুলিশ। মামলা দায়ের হয়েছে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৫৪বি ধারায়। অভিযুক্তের খোঁজ চললেও নির্যাতিতার তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
