উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: হাতে সময় মাত্র চারদিন, আর নিখুঁতভাবে যাচাই করতে হবে প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষের তথ্য! Supreme Courtroom directive বা সুপ্রিম কোর্টের নজিরবিহীন নির্দেশে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে এমন এক চ্যালেঞ্জের মুখেই দাঁড়িয়ে নির্বাচন কমিশন (Bengal voter listing verification)। ভোটারদের তথ্যগত অসঙ্গতি (voter information anomalies) দূর করে একটি স্বচ্ছ তালিকা তৈরির লক্ষ্যে এবার সরাসরি ভেরিফিকেশনের ময়দানে নেমেছেন (Excessive Courtroom-appointed judges) (হাই কোর্ট নিযুক্ত বিচারকরা)। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি remaining voter listing বা চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের ডেডলাইন।
প্রযুক্তিগত বাধা পেরিয়ে শুরু কর্মযজ্ঞ
সোমবার এসআইআর (SIR)-এর চূড়ান্ত যাচাই প্রক্রিয়ার কাজ শুরু হতেই প্রথম ধাক্কাটা আসে প্রযুক্তির দিক থেকে। পোর্টালে লগ-ইন এবং ওটিপি (OTP) সংক্রান্ত বেশ কিছু সার্ভার জটিলতা দেখা দেয়। তবে দ্রুত সেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক CEO Manoj Agarwal জানিয়েছেন, প্রাথমিক প্রযুক্তিগত ত্রুটি অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে এবং পুরোদমে কাজ এগোচ্ছে।
কড়া নজরদারিতে হাই কোর্ট
এই বিশাল কর্মযজ্ঞ যাতে আইনি গণ্ডি মেনে সম্পন্ন হয়, তার জন্য কড়া নজরদারি চালাচ্ছে কলকাতা হাই কোর্ট। প্রধান বিচারপতির উপস্থিতিতে মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক ও রাজ্যের মুখ্যসচিব-সহ শীর্ষ কর্তাদের নিয়ে ইতিমধ্যেই দফায় দফায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। সোমবারের বিশেষ বৈঠকে সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ার একটি সুস্পষ্ট নির্দেশিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নির্ধারিত নির্দেশিকার বাইরে কোনওরকম পদক্ষেপ করা যাবে না।
কীভাবে কাজ করছে নতুন পোর্টাল?
কমিশনের তৈরি করা বিশেষ verification portal-এ বিচার বিভাগীয় আধিকারিকরা কীভাবে কাজ করবেন, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ ডেমো এদিনের বৈঠকে পেশ করা হয়। পোর্টালে ভোটারদের তথ্য আপলোড, যাচাই এবং প্রয়োজনে তা মুছে ফেলার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি দেখানো হয়। কোনও আবেদন বাতিল বা গৃহীত হলে, তার সুনির্দিষ্ট আইনি কারণও পোর্টালে উল্লেখ করতে হবে।
এত কম সময়ে বিপুল সংখ্যক ভোটারের তথ্য যাচাই করা কার্যত এক অসাধ্য সাধন। তাই কাজের স্বচ্ছতা ও গতি বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশনকে প্রতিদিনের কাজের অগ্রগতির রিপোর্ট বা every day progress report হাই কোর্টে জমা দেওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক ও আইনি কাঠামোর নিখুঁত সমন্বয়ের মাধ্যমে ২৮ তারিখের মধ্যে কমিশন এই লক্ষ্যমাত্রা ছুঁতে পারে কি না, এখন সেদিকেই নজর ওয়াকিবহাল মহলের।
