দুর্গাপুর: উত্তপ্ত মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় (Beldanga Unrest) সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের হাতে আক্রান্ত হয়েছেন কলকাতার এক বৈদ্যুতিন সংবাদমাধ্যমের মহিলা সাংবাদিক সোমা মাইতি ও তাঁর সহকর্মীরা (Beldanga Journalist Attacked)। এই ঘটনায় পুলিশের ‘নিষ্ক্রিয়তা’ ও রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে সরব হয়েছে বিজেপি। শনিবার দুর্গাপুরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে লকেট চট্টোপাধ্যায় (Locket Chatterjee) এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে রাজ্য সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন।
ঝাড়খণ্ডে এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শুক্রবার থেকেই রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় বেলডাঙা। জাতীয় সড়ক ও রেললাইন অবরোধের জেরে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। শুক্রবার এই ঘটনার খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের রোষের মুখে পড়েন সাংবাদিক সোমা মাইতি। অভিযোগ, তাঁর চুলের মুঠি ধরে অশালীনভাবে মারধর করা হয়। এমনকি তাঁর ক্যামেরা পার্সনকেও রেহাই দেওয়া হয়নি। শনিবারও একইভাবে আক্রান্ত হন সাংবাদিক কৌশিক ঘোষ, পলাশ মণ্ডল এবং চিত্র সাংবাদিক কেষ্ট দত্ত।
এদিন দুর্গাপুরের বাঁশকোপায় বিধায়ক লক্ষণ ঘোড়ুই ও অন্যান্য বিজেপি নেতাদের উপস্থিতিতে লকেট চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘একজন সাংবাদিকের কাজই হল খবর সংগ্রহ করা। সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই সোমা মাইতি আক্রান্ত হয়েছেন। যেভাবে তাঁর উপরে হামলা হয়েছে, তা অত্যন্ত অশালীন ও নিন্দনীয়। বলতে গেলে একপ্রকার তাঁকে মেরেই ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল।’ তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘এই ঘটনার সময় পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। পুলিশের সাহায্য চাওয়া হলেও কোনওরকম সহায়তা মেলেনি। এমনকি ঘটনাস্থল থেকে তাঁকে নিয়ে যাওয়ার জন্য কোনও গাড়ির ব্যবস্থাও করা হয়নি। তাঁকে টোটোতে তোলার সময় টোটোচালককেও হুমকি দেওয়া হয়।’ তাঁর দাবি, রাজ্য সরকারের ‘তুষ্টিকরণের রাজনীতি’র কারণেই দুষ্কৃতীরা এই সাহস পাচ্ছে।
লকেট আরও অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের সুরক্ষা দেওয়ার বদলে তাঁদের ঘটনাস্থলে যেতে বারণ করছেন, যা আদতে সত্য গোপনের চেষ্টা। তিনি অবিলম্বে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে কঠোরতম শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এই ঘটনায় সাংবাদিকমহলেও তীব্র প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।
