প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান: দারিদ্র্য যাঁদের নিত্যসঙ্গী, সাফল্য তাঁদের কাছে মরীচিকা হতে পারে। কিন্তু অদম্য জেদ থাকলে যে আকাশের চাঁদকেও মুঠোয় আনা যায়, তা প্রমাণ করে দেখাল জৌগ্রামের কিশোর চন্দন সরকার। কলকাতার রাজপথে রিকশা চালিয়ে বাবার মাথার ঘাম পায়ে ফেলা পরিশ্রম আর মায়ের ঘরে বসে রাত জেগে সেলাইয়ের কাজ— এই সবেরই সার্থকতা মিলল মণিপুরের খুমান লাম্পাক স্টেডিয়ামে। ৬৯তম জাতীয় স্কুল গেমস চ্যাম্পিয়নশিপে ‘ওশু সন্ডা’ (Wushu Sanda) প্রতিযোগিতায় ব্রোঞ্জ পদক জিতে বাংলার মুখ উজ্জ্বল করল জৌগ্রাম হাই স্কুলের একাদশ শ্রেণীর এই ছাত্র।
চন্দনের বাড়ি জামালপুরের জৌগ্রামের কলুপুকুর গ্রামে। বাবা চিরঞ্জিত সরকার অভাবের তাড়নায় কলকাতায় গিয়ে রিকশা চালান, মা বরুণা সরকার গৃহস্থালির কাজের ফাঁকে সেলাই করে সংসারের জোয়াল টানেন। এই চরম দারিদ্র্যের মধ্যেও চন্দনের খেলাধুলার প্রতি প্যাশনকে মরতে দেননি তাঁরা। চন্দনের মা গর্বের সঙ্গে বলেন, “আমরা কষ্ট করে ছেলেদের মানুষ করছি, চন্দন আজ আমাদের নিরাশ করেনি।”
জাতীয় স্কুল গেমস ফেডারেশন অফ ইণ্ডিয়া আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধিত্ব করেছিল চন্দন। গত ১৪ জানুয়ারি মণিপুরে শুরু হওয়া আসরে ১৮ জানুয়ারি ছিল চন্দনের মরণ-বাঁচন লড়াই। ওশু সন্ডা-র রিংয়ে দিল্লির তাবড় প্রতিযোগীকে ধুলোয় মিশিয়ে ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করে সে। এর আগে রাজ্য স্তরের প্রতিযোগিতায় সোনা জিতেই নিজের জাত চিনিয়েছিল চন্দন। কালনার প্রশিক্ষক নারায়ণ দাসের হাত ধরে আজ সে জাতীয় স্তরে প্রতিষ্ঠিত।
সোমবার মণিপুর থেকে বিমানে কলকাতা বিমানবন্দরে নেমেই চন্দন কৃতজ্ঞতা জানায় তার বাবা-মা, কোচ এবং স্কুল কর্তৃপক্ষকে। জৌগ্রাম হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক তপন কুমার রাউথ জানান,“চন্দনের সাফল্যে আমাদের স্কুল আজ গর্বিত। সে বাড়ি ফিরলে তাকে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সংবর্ধনা দেওয়া হবে।” জৌগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান সাজাহান মণ্ডলও মনে করেন, চন্দনের এই জয় অন্য ছাত্রদের কাছে বড় অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়াবে।
