চ্যাংরাবান্ধা: ওপাড়ে ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচন (Bangladesh Election 2026)। আর তার আঁচ পড়ল এপাড়েও। দীর্ঘ দুই দশকের রীতি ভেঙে বাংলাদেশের নির্বাচনের জন্য এবার চ্যাংরাবান্ধা আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট (Changrabandha immigration test publish) দিয়ে যাত্রী পারাপার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ। এর ফলে বুধবার থেকেই চেনা ভিড় উধাও হয়ে খাঁ খাঁ করছে চ্যাংরাবান্ধা স্থলবন্দর (Changrabandha Border)।
সাধারণত দুই দেশের নির্বাচনের সময় বৈদেশিক বাণিজ্য বন্ধ থাকলেও ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট খোলা থাকে। কিন্তু এবার চিত্রটা ভিন্ন। চ্যাংরাবান্ধা ইমিগ্রেশন দপ্তর সূত্রে খবর, বাংলাদেশ থেকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের কারণে তাদের ইমিগ্রেশন বন্ধ থাকবে। চ্যাংরাবান্ধার দীর্ঘদিনের মুদ্রা বিনিময় ব্যবসায়ী মহাবুল আলম জানান, “গত ২০ বছরে ভারত বা বাংলাদেশের নির্বাচনের জন্য কখনো আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন বন্ধ থাকতে দেখিনি। এবারই প্রথম এমনটা হচ্ছে।”
প্রতিবেশী দেশের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো রকম ঝুঁকি নিতে নারাজ ভারত। চ্যাংরাবান্ধা সীমান্ত গেটে বিএসএফ-এর নিরাপত্তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মেখলিগঞ্জের এসডিপিও আশিস পি সুব্বা জানিয়েছেন, “মেখলিগঞ্জ মহকুমার চারদিক বাংলাদেশ দিয়ে ঘেরা। উন্মুক্ত সীমান্ত থাকায় নাকা চেকিং, নাইট পেট্রোলিং এবং ইন্টেলিজেন্স নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।”
বৈদেশিক বাণিজ্য দু’দিন বন্ধ থাকার ঘোষণায় বুধবার থেকেই সার্ক রোড, ভিআইপি মোড় বা সুবিধা পোর্টাল এলাকায় ট্রাকের দীর্ঘ লাইন উধাও। প্রতিদিন যে এলাকাটি হাজার হাজার শ্রমিকের কোলাহলে মুখরিত থাকে, বুধবার সেখানে ছিল শুনশান নীরবতা। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অশান্তি কাটিয়ে নতুন সরকারের কাছে যেমন ওপাড়ের মানুষের প্রত্যাশা অনেক, তেমনই এপাড়ে নিরাপত্তা বজায় রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
