উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬। বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সূচিত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ ১৮ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের পর আগামীকাল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন (Bangladesh Election 2026) । একই সাথে ভোটাররা ভোট দেবেন ‘জুলাই সনদ’ বা সংবিধান সংস্কারের ওপর একটি জাতীয় গণভোটে।
আগামীকাল সকাল ৭:৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪:৩০ মিনিট পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। এবারের নির্বাচনে প্রযুক্তি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার এক অভূতপূর্ব সমন্বয় দেখা যাচ্ছে। মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ (প্রায়) ভোটার তাদের নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করবেন। ২৯৯ আসনে ভোট হবে। শেরপুর ৩ আসনটি প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট স্থগিত রয়েছে। মোট প্রার্থী ২০২৮ জন। আওয়ামী লিগ বাদে ৫০টি ছোট বড় দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। আওয়ামী লিগের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করায় তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। সব মিলিয়ে ৯ লক্ষ নিরাপত্তা কর্মী নির্বাচনে মোতায়েন থাকবে। এরমধ্যে ১ লক্ষের বেশি সেনা সদস্য রয়েছে। জানা গেছে ভোটাররা এবার দুটি করে ব্যালট পেপার পাবেন, একটি সাদা ব্যালট। যেটি নিজ এলাকার সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য। অন্যটি গোলাপী ব্যালট, সেটি প্রস্তাবিত ‘জুলাই সনদ’ বা সংবিধান সংস্কারের পক্ষে বা বিপক্ষে মতামত (হ্যাঁ/না ভোট) দেওয়ার জন্য। বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে ভোট শেষ হবে। এরপরই গণনা শুরু হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে গড়ে দুই–তিন হাজার ভোট, দুই ধরনের ব্যালট—গণনায় চার থেকে ছয় ঘণ্টা লাগতে পারে। রাত থেকে ভোরের মধ্যে প্রাথমিক ফল আসতে শুরু করবে।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট দেশজুড়ে প্রবল গণবিক্ষোভের জেরে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এই প্রথম বাংলাদেশে নির্বাচন হচ্ছে। দেশত্যাগ করে হাসিনা এই মুহূর্তে ভারতে রয়েছেন। হাসিনার দল আওয়ামি লিগ এই নির্বাচন বয়কটের ডাক দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি বড় দল হিসেবে উঠে এসেছে। তারা নিজেরাই ২৯১ আসনে প্রার্থী দিয়েছে। অন্যদিকে জামায়তে ইসলামীর নেতৃত্বে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নির্বাচনী লড়াইয়ে রয়েছে সদ্য গড়ে ওঠা রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টিও। এছাড়াও জিএম কাদেরের নেতৃত্বে এরশাদের জাতীয় পার্টিও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করছে।শুরু হবে গণনা। প্রতিটি কেন্দ্রে দুটি ভিন্ন ধরনের ব্যালট (সংসদ নির্বাচন ও গণভোট) থাকায় গণনা শেষ হতে ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, ১২ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি ভোরের মধ্যে নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল ও নতুন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রূপরেখা স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
