উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: নির্বাচনের আগে বিক্ষোভে উত্তাল বাংলাদেশ (Bangladesh)। হাদি হত্যার ঘটনায় রাতভর সে দেশের নানা প্রান্তে ভাঙচুর-লুটের ঘটনা ঘটল। বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার (Dhaka) কারওয়ান বাজারে দুই প্রথমসারির সংবাদপত্রের দপ্তরে ভাঙচুর চালানোর পর আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ধানমন্ডিতে সংগীতশিল্পী সনজীদা খাতুন প্রতিষ্ঠিত সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ‘ছায়ানট’-এর সাততলা ভবনের প্রতিটি কক্ষে ঢুকে ভাঙচুর চালানো হয়। রাতে বুলডোজার নিয়ে এসে রাজশাহীতে আওয়ামী লিগের পার্টি অফিস ভাঙা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল গভীর রাতে বুলডোজার নিয়ে এসে কুমারপাড়ায় অবস্থিত আওয়ামী লিগের (Awami League) অফিস ভাঙা শুরু হয়। বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা নানা স্লোগান দিতে থাকেন। তার আগে হাদি হত্যার প্রতিবাদ জানিয়ে রাত ১১টার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মিছিল বের হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে এসে অবস্থান শুরু করে। আওয়ামী লিগ ও ভারত-বিরোধী নানা স্লোগান দিতে থাকেন তাঁরা। একই সময় রাজশাহীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে এনসিপি ও জুলাই ৩৬ মঞ্চের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে বুলডোজার দিয়ে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লিগের অফিস ভাঙচুর করা হয়।
ওপার বাংলার সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলেছে সে দেশের রাজনৈতিক দলগুলি। খালেদা জিয়ার দল বিএনপি-র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠীর পতনের পর দুষ্কৃতীরা আবারও দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি সহ নৈরাজ্যের মাধ্যমে ফায়দা হাসিলের অপতৎপরতায় লিপ্ত হয়েছে। দুষ্কৃতীদের নির্মম হামলায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি নিহতের ঘটনা সেই অপতৎপরতারই বহিঃপ্রকাশ।’ একইসঙ্গে সংবাদপত্রের অফিসে হামলার নিন্দা করেছেন তিনি। অন্য দিকে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ-বিরোধী শক্তি ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’ (‘জামাত’ নামেই যা পরিচিত)-ও এই পরিস্থিতিতে দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার আর্জি জানিয়েছে। দলের নেতা শফিকুর রহমান সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে লিখেছেন, ‘দেশটা আমাদের সকলেরই অস্তিত্বের অংশ। আশা করি সকলেই সর্বোচ্চ ধৈর্যের পরিচয় দেবে।’ সংবাদপত্রের অফিসে হামলার নিন্দা করে হাসিনার দল আওয়ামী লিগ লিখেছে, ‘এই লুট আর হাঙ্গামার রাজত্ব কায়েম করেছে ইউনূস সরকার, এনসিপি (জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্র-যুবদের একাংশের দল) আর জঙ্গিগোষ্ঠী।’
গতকাল ক্ষতিগ্রস্ত হয় দুই সংবাদপত্রের অফিসও। আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এদিন দু’টি সংবাদপত্রেরই মুদ্রিত সংস্করণ প্রকাশিত হচ্ছে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়। হাসিনা জমানার অবসানের পর একাধিক বার ভাঙচুর করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ধানমন্ডির বাড়ি। গতকাল রাতে সেই বাড়ি তথা সংগ্রহশালায় ফের ভাঙচুর চালানো হয়।
প্রসঙ্গত, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী শহীদ শরিফ ওসমান হাদি জুলাই আন্দোলনের (২০২৪ সালের অগাস্ট মাসে যার জেরে হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিলেন) অন্যতম নেতা। গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরনো পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। ইউনূস সরকারের অভিযোগ, হাসিনার দল আওয়ামী লিগের ছাত্র সংগঠন ছাত্র লীগের এক কর্মী হাদির মাথায় গুলি করেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারি উদ্যোগে হাদিকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হলেও বাঁচানো যায়নি। বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়। এদিকে এই ঘটনার পরই বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ শুরু হয়। গভীর রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন ইউনূস। সেখানে তিনি সবাইকে ‘ধৈর্য ও সংযম’ বজায় রাখার আবেদন জানান।
