উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: মঙ্গলবার বাংলাদেশের (Bangladesh) রাজনীতি সাক্ষী থাকল এক নজিরবিহীন নাটকীয়তার। সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদে’র সদস্য (Structure Reform Council) হতে সাফ মানা করে দেয় বিএনপি (BNP)। অন্যদিকে, সকালে বেঁকে বসলেও দুপুরে নাটকীয়ভাবে ডিগবাজি খেয়ে শপথ নিলেন জামায়াতে প্রার্থীরা (Jamat-e-Islami)। দুই প্রধান মিত্রের এই সংঘাতের জেরে বর্তমানে মুহাম্মদ ইউনূসের ‘সংবিধান সংস্কার’ ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের স্বপ্ন বড়সড়ো প্রশ্নের মুখে।
এদিন সকাল পৌনে ১১টা নাগাদ জাতীয় সংসদ ভবনে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শুরু হয়। বিএনপি নেতারা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সাফ জানিয়ে দেন, সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে তাঁরা শপথ নেবেন না। এতেই ক্ষুব্ধ হয় জামায়াতে ইসলামি। শুরুতে তারা শপথ বর্জনের হুমকি দিলেও, দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ অবস্থান বদলে এমপি ও সংস্কার পরিষদ—উভয় সদস্য হিসেবেই শপথ নেন জামায়াতে প্রার্থীরা।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের মতে, বর্তমান সংবিধানে সংস্কার পরিষদের কোনও আইনি ভিত্তি নেই। তাঁর দাবি, গণভোটের রায় অনুযায়ী আগে সংস্কার পরিষদকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। কে শপথ পাঠ করাবেন, তা সাংবিধানিকভাবে নির্ধারিত হতে হবে।
বিএনপির ২০৯ জন এবং শরিক দলের ৩ জন সদস্য সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ায় এই পরিষদ গঠন কার্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এতেই চটেছে এনসিপি (NCP) ও জামায়াতে। এনসিপি নেতা সারজিস আলম সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন, ‘জুলাইয়ের সঙ্গে গদ্দারি করে বিএনপি যাত্রা শুরু করেছে।’
প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কমানো এবং দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা করার যে স্বপ্ন ‘জুলাই সনদে’ দেখা হয়েছিল, বড় শরিক বিএনপির আপত্তিতে তা এখন অনিশ্চয়তার অন্ধকারে। অন্তর্বর্তী সরকারের এই মাস্টারপ্ল্যান কি শেষ পর্যন্ত ভেস্তে যাবে? উত্তরের অপেক্ষায় পদ্মাপারের মানুষ।
