উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ চোখের সামনে ড্রোন আর মিসাইলের আঘাতে দাউদাউ করে জ্বলছে একের পর এক জাহাজ। কান ফাটানো বিস্ফোরণ আর ধোঁয়ার কুণ্ডলীতে ঢেকেছে আকাশ। পারস্য উপসাগরের উত্তাল পরিস্থিতির মাঝে ইরানের বন্দর আব্বাসে গত দুই সপ্তাহ ধরে আটকে রয়েছেন ২৬ বছর বয়সী ভারতীয় নাবিক অম্বুজ। ছয় মাস ধরে বাড়ির বাইরে থাকা এই যুবক এখন শুধু সুস্থ শরীরে পরিবারের কাছে ফেরার প্রার্থনা করছেন।
যুদ্ধের কবলে ভারতীয় নাবিকরা
ইরান এবং আমেরিকা-ইসরায়েল যুদ্ধের জেরে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন ভারতের বিশাল সংখ্যক সমুদ্রকর্মী। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রায় ২৩,০০০ ভারতীয় নাবিক বিভিন্ন মার্চেন্ট এবং অফশোর জাহাজে কর্মরত। অম্বুজ তাঁদেরই একজন। একটি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাকে ফোনে তিনি জানান, নিরাপত্তা জনিত কারণে নিজের পদবি ব্যবহার করতে পারছেন না তিনি।
সেই আতঙ্কিত মুহূর্ত: যখন এল চরম হুঁশিয়ারি
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি দেশের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল অম্বুজের জাহাজটি। কিন্তু মার্চের শুরুতে ওয়্যারলেসে আসা একটি বার্তা সব বদলে দেয়। ইরানের ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস’ (IRGC) থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়—হরমুজ প্রণালী পার করার চেষ্টা করলে তার পরিণাম হবে ভয়াবহ। অম্বুজ বলেন, “আমরা জানি নৌবাহিনীর এসকর্ট বা অনুমতি ছাড়া এগোনো কতটা বিপজ্জনক। আমরা এখন কেবল নিরাপদ পথের অপেক্ষায় আছি।”
দুশ্চিন্তায় দিল্লি
ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম নাবিক সরবরাহকারী দেশ। সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা প্রায় ৩ লক্ষ ভারতীয় নাবিকের নিরাপত্তা এখন কেন্দ্রের মাথাব্যথার কারণ। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ে ইরান ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিরন্তর যোগাযোগ রাখছে দিল্লি।
“শুধু বাড়ি ফিরতে চাই”
অম্বুজের কোম্পানি তাঁদের ডিউটি থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। এখন কোনোক্রমে মধ্যপ্রাচ্যের অন্য কোনো বন্দরে জাহাজটি নোঙর করতে পারলেই সেখান থেকে প্রথম ফ্লাইটে বাড়ি ফিরতে চান তাঁরা। কিন্তু সেই ‘ক্লিয়ারেন্স’ কবে আসবে, তা কেউ জানে না। মাসের পর মাস সমুদ্রের নোনা জলে কাটানো এই মানুষগুলোর কাছে এখন প্রতিটি মুহূর্ত যেন এক একটি অনন্তকাল।
