শুভজিৎ দত্ত, বানারহাট: প্রবাদ রয়েছে, ভাগের মা গঙ্গা পায় না। চা বাগান আর সবুজ কৃষিজমিতে ঘেরা ডুয়ার্সের (Dooars) বানারহাট (Banarhat) ব্লকের বর্তমান অবস্থাও ঠিক তেমনই। ২০২১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ধূপগুড়ি থেকে আলাদা হয়ে বানারহাট স্বাধীন ব্লকের স্বীকৃতি পায়। কিন্তু এই বিস্তীর্ণ এলাকা তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রের জগাখিচুড়ি হয়ে রয়েছে। ফলে, ভোটব্যাংক হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলির কাছে কদর থাকলেও পূর্ণাঙ্গ উন্নয়নের ক্ষেত্রে চরম বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন এলাকার মানুষ। স্বাধীনতার পর থেকে নিজেদের ঘরের কোনও জনপ্রতিনিধি না পাওয়ার দীর্ঘদিনের এই আক্ষেপ থেকে আলাদা বিধানসভা কেন্দ্রের দাবি বানারহাটে জোরালো হয়ে উঠছে। রাজনৈতিক দলগুলির এ ব্যাপারে কোনও হেলদোল নেই বলে অভিযোগ। সাঁকোয়াঝোরা-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান ও তৃণমূলের ব্লক কমিটির সহ সভাপতি গোপাল চক্রবর্তী বলেন, ‘আসন পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে বামেদের চক্রান্তের খেসারত এখন বানারহাট ব্লককে দিতে হচ্ছে। নতুন করে পুনর্বিন্যাস অত্যন্ত জরুরি ছিল।’
বর্তমানে বানারহাট ব্লকের সাতটি গ্রাম পঞ্চায়েত। এর মধ্যে চামুর্চি ও বানারহাট-২ গ্রাম পঞ্চায়েত নাগরাকাটা বিধানসভা, সাঁকোয়াঝোরা-১ ও বিন্নাগুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত দুটি আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাট বিধানসভা এবং বানারহাট-১, শালবাড়ি ১ ও ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত ধূপগুড়ি বিধানসভার অন্তর্গত। অথচ ২৪টি চা বাগান ও বিস্তীর্ণ কৃষিবলয় নিয়ে গঠিত এই ব্লকের জনসংখ্যা দু’লক্ষের বেশি। তিন বিধানসভার ভাগ্যনির্ধারণে বানারহাটের ১ লক্ষ ৬৭ হাজারেরও বেশি ভোটার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিলেও, উন্নয়নের সুফল সেভাবে পৌঁছাচ্ছে না বলে অভিযোগ। বানারহাট হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক সুকল্যাণ ভট্টাচার্যের কথায়, ‘১৯৫২ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী তপশিলি উপজাতিদের অধিকার রক্ষায় আলাদা বিধানসভা হওয়ার সমস্ত সাংবিধানিক যোগ্যতা বানারহাটের রয়েছে।’
বিষয়টি নিয়ে কী বলছেন রাজনীতির কারবারিরা? শাসকদলের বানারহাট ব্লক কমিটির সভাপতি সন্দীপ ছেত্রীর বক্তব্য, ‘আলাদা ব্লক কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন আমাদের সরকার করেছে। বর্তমানে তিন বিধানসভার মধ্যে ধূপগুড়িতে আমাদের বিধায়ক থাকলেও তিনি উপনির্বাচনে জিতে আসা। মাদারিহাটের ক্ষেত্রে তো বিধায়ক মেরেকেটে এক থেকে দেড় বছর সময় পেলেন। নাগরাকাটার বিধায়ক বিজেপির। পূর্ণ সময়ের জন্য তিনটি আসন আমাদের দখলে আসার পর উন্নয়ন নিয়ে কোনও চিন্তা করতে হবে না।’
বিজেপির জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) জেলা কমিটির সহ সভাপতি পুনিতা ওরাওঁয়ের দাবি, উন্নয়ন বলতে কী বোঝায় তৃণমূলের আমলে তা বানারহাটের বাসিন্দারা জানেন না। বিজেপি ক্ষমতায় এলে সবকিছু করা হবে।
