স্বপনকুমার চক্রবর্তী, বামনগোলা: প্রেম মানে না সীমানা। সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানিয়েছে বামনগোলার তরুণীর প্রেমকাহিনী। ভালোবাসার মানুষের টানে আন্তর্জাতিক সীমানা ছাড়িয়ে বাংলাদেশে গিয়ে বিজিবি’র হাতে আটক তরুণীর গল্পে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মালদায়।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রেমের টানে ঘর ছেড়েছিলেন ২১ বছরের তরুণী৷ মালদা জেলার বামনগোলার গ্রাম থেকে পরিজনদের নজর এড়াতে কয়েক কিলোমিটার হেঁটে পাড়ি দিয়েছিলেন প্রেমিকের বাড়ির উদ্দেশে৷ কোনওভাবে বিএসএফের নজর এড়িয়ে আন্তর্জাতিক সীমান্ত টপকে প্রতিবেশী দেশে ঢুকেও পড়েন ওই তরুণী৷ কিন্তু বিধি বাম৷ বিজিবি’র হাতে ধরা পড়েছেন তিনি। তবে এদেশের কোন সীমান্ত দিয়ে ওই তরুণী বাংলাদেশে ঢুকেছিলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
বিএসএফ এবং পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার তপন থানার নাহেরকুড়ি সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশের আদাতলা বিজিবি ক্যাম্পের জওয়ানদের হাতে ধরা পড়েছেন তিনি৷ এনিয়ে বুধবার সন্ধ্যায় সীমান্তে দু’দেশের সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর বৈঠকও শুরু হয়৷ কিন্তু প্রবল বৃষ্টিতে ভেস্তে যায় বৈঠক৷ এখনও ভারতীয় ওই তরুণী বাংলাদেশেই রয়েছেন৷
ওই তরুণীর পরিবারে রয়েছেন বাবা ও মা। বাবা পেশায় শ্রমিক৷ মা গৃহবধূ৷ বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান এই তরুণী৷ তিনি কলেজে দ্বিতীয় বর্ষ পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। তারপর অবশ্য কোনও কারণবশত পড়াশোনা আর হয়নি। গ্রামবাসীদের অনেকেই জানাচ্ছেন, তরুণীর স্বভাব যথেষ্ট ভালো৷ মেয়েকে কীভাবে ফিরিয়ে আনবেন, তা ভেবেই এখন চিন্তায় ওই তরুণীর বাবা-মা।
ওই তরুণী কীভাবে বাংলাদেশি তরুণের প্রেমে পড়লেন, তা স্পষ্ট বলতে পারছেন না কেউই৷ তবে তরুণীর মা জানিয়েছেন, গত মঙ্গলবার তিনি আর তাঁর মেয়ে এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন৷ ওই আত্মীয়ের বাড়ি বামনগোলারই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাছাকাছি একটি গ্রামে৷ পরদিন দুপুরে একটু ঘুরে আসার কথা বলে মেয়ে আত্মীয়ের বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়৷ তারপর সে আর ঘরে ফেরেনি৷ সন্ধ্যা হয়ে গেলেও মেয়ে না ফেরায় তাঁরা চারদিকে খোঁজখবর শুরু করেন৷ না পেয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। পরদিন বুধবার দক্ষিণ দিনাজপুরের এক ব্যক্তির কাছে থেকে ফোনে খবর পান, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার তপন থানার অন্তর্গত নাহেরকুড়ি সীমান্ত এলাকায় ভারতের ছত্রহাটি বিএসএফ ক্যাম্পের ওপারে থাকা বাংলাদেশের আদাতলা বিজিবি ক্যাম্পের জওয়ানদের হাতে ধরা পড়েছে তাঁর মেয়ে৷ সে কীভাবে, কোন এলাকা দিয়ে বিএসএফ জওয়ানদের চোখ ফাঁকি দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকে পড়ল, তা বুঝে উঠতে পারছেন না৷
মেয়ের কোনও প্রেমের সম্পর্কের কথা জানতেন কি না? উত্তরে তরুণীর মা জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচিত কারও সঙ্গে প্রেম চলছে, তিনি তা অনুমান করতেন। এই নিয়ে মেয়েকে শাসনও করেছিলেন। মেয়ে যে বাংলাদেশের কোনও তরুণের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছে, তা বিন্দুমাত্র আঁচ করতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘আত্মীয়ের বাড়ি থেকেই মেয়ে বেরিয়ে যায়। বিন্দুমাত্র আঁচ পেলে সেদিন মেয়েকে কিছুতেই বাড়ির বাইরে যেতে দিতাম না৷ শুনতে পাচ্ছি, মেয়েকে ফেরানোর বিষয়ে আবারও দু’দেশের সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর বৈঠক হবে। মেয়েকে ফিরে পাওয়ার আশায় প্রহর গুনছি।’
