সুবীর মহন্ত, বালুরঘাট : নেশার টাকা না পেয়ে অসুস্থ বাবা-মাকে পিটিয়ে বাড়িছাড়া করল ছেলে। ঠিক এমন ঘটনাই ঘটেছে বালুরঘাট (BALURGHAT) শহরের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের ঘাটকালী কলোনি এলাকায়। শুক্রবার রাতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। তবে এলাকাবাসী এই ঘটনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। ওই আহত দম্পতিকে বাড়িতে ফেরাবার পাশাপাশি, মারধর করা হয় অভিযুক্ত ছেলেকেও। পরে বালুরঘাট থানার পুলিশ এসে ওই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়। ছেলের হাতে বাবা-মার এভাবে মারধরের ঘটনা সাড়া ফেলে দিয়েছে এলাকায়। প্রতিবেশীরাই ওই আহত দম্পতিকে বালুরঘাট হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসা করিয়ে সেখান থেকে ফিরেই গভীর রাতে ছেলের বিরুদ্ধে বালুরঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মা ঝর্ণা চৌধুরী। শনিবার ধৃতকে বালুরঘাট আদালতে পাঠানো হলে, বিচারক তাকে ১৪ দিনের জেল হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
বালুরঘাট শহরের উনিশ নম্বর ওয়ার্ডের ঘাটকালী কলোনি এলাকার বাসিন্দা সৌমিত্র চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতে রয়েছেন। তিনি হাঁটাচলা করতে পারেন না। তাঁর স্ত্রীও বর্তমানে অসুস্থ। যদিও সেই অবস্থাতেই তিনি গৃহ পরিচারিকার কাজ করে কোনও রকমে সংসার চালান। তাঁদের ছেলের নাম দিলীপ চৌধুরী। পেশায় কুলিগিরি করলেও, দীর্ঘদিন ধরেই সে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় মা-বাবার উপর অত্যাচার চালাচ্ছে। শুক্রবার রাতে ফের ওই তরুণ মায়ের কাছে নেশার জন্য টাকা চেয়েছিল। কিন্তু তার মা টাকা দিতে অস্বীকার করায় মাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ ও মারধর শুরু করে। স্ত্রীকে বাঁচাতে এলে সৌমিত্রকেও বেধড়ক পেটানো হয়। ওই সময় তাঁদের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। তাঁদের চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা সহায়তার জন্য এগিয়ে আসেন। এরপর প্রতিবেশীরাই ওই তরুণকে আটক করে মারধর করে বলে অভিযোগ। পরে বালুরঘাট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই তরুণকে গ্রেপ্তার করে বালুরঘাট থানায় নিয়ে যায়। এদিকে, প্রতিবেশীরা ওই আহত দম্পতিকে চিকিৎসার জন্য বালুরঘাট হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে ওই অভিযুক্ত তরুণের মা ঝর্ণা চৌধুরী বালুরঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
ঝর্ণা বলেন, ‘আমরা স্বামী-স্ত্রী অসুস্থ। স্বামী কোনও কাজই করতে পারে না। আমার ছেলে মাঝেমধ্যেই নেশার জন্য টাকা চায়। এনিয়ে আগেও মারধর করেছে। এদিন টাকা না দেওয়ায় আমাদের নেশা করে এসে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। থানায় অভিযোগ জানিয়েছি।’
প্রতিবেশী দেবব্রত চৌধুরী জানান, প্রায়দিনই বাবা-মাকে মারধর করে ওই তরুণ। গতকাল বাড়াবাড়ি হয়ে যাওয়ায় প্রতিবেশীরা এই ঘটনার প্রতিবাদ করেন। এর পরেই পুলিশ এসে গ্রেপ্তার (Arrested) করে নিয়ে যায়। বালুরঘাট থানার আইসি সুমন্ত বিশ্বাস জানিয়েছেন, অভিযোগ পেয়ে পুরো ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে। একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
