Bagdogra Airport | রাজবংশীদের মন জয়ের চেষ্টা! বাগডোগরা বিমানবন্দরে পদ্ম চায় চিলা রায়ের নাম

Bagdogra Airport | রাজবংশীদের মন জয়ের চেষ্টা! বাগডোগরা বিমানবন্দরে পদ্ম চায় চিলা রায়ের নাম

শিক্ষা
Spread the love


খোকন সাহা, বাগডোগরা: রাজবংশী মন জয়ে এবার ‘তাস’ বিমানবন্দর। বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে উত্তরের মাটিতে পদ্ম ফোটাতে বাগডোগরা বিমানবন্দরের (Bagdogra Airport) সঙ্গে চিলা রায়ের (Chila Roy) নাম জুড়তে তৎপর হল বিজেপি (BJP)। কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান চলাচলমন্ত্রী কিনজারাপু রামমোহন নাইডুর কাছে বুধবার এমন দাবি পেশ করল দিল্লিতে থাকা বিজেপি বিধায়কদের প্রতিনিধিদল। কেন চিলা রায়ের নামে বিমানবন্দরের নাম হওয়া উচিত, সেই যুক্তিও লিখিত আকারে মন্ত্রীর হাতে তুলে দিয়েছেন শংকর ঘোষ, আনন্দময় বর্মনরা। উত্তরবঙ্গের প্রায় এক কোটি ভোটারের মন পেতেই যে এই প্রচেষ্টা, তা বিজেপি বিধায়কদের পদক্ষেপেই স্পষ্ট। যদিও মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির বিধায়ক আনন্দময় বলছেন, ‘১৯৬০ সালে বিমানবন্দর গড়ে তোলার ক্ষেত্রে যাঁরা জমি দিয়েছিলেন, তাঁরা প্রত্যেকেই রাজবংশী সম্প্রদায়ের। রাজবংশী শব্দ থেকেই বাগডোগরার নামকরণ। ফলে বিশ্ব মহাবীর চিলা রায়ের নামে বাগডোগরা বিমানবন্দর নামকরণই যুক্তিযুক্ত। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই।’

উত্তরবঙ্গের মাটিতে ’১৯-এ বিজেপির উত্থানের মূলেই রয়েছে আদিবাসী ও রাজবংশীদের একচেটিয়া ভোট। যদিও সময়ের সঙ্গে নানা কারণে বিশ্বাসে ‘চিড়’ ধরেছে। যার প্রমাণ মিলেছে ’২১-এর বিধানসভা ভোটের পর ’২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে। বছর ঘুরলেই বিধানসভা নির্বাচন। ফলে নতুন করে রাজবংশীদের মন জয়ের চেষ্টা শুরু হয়েছে পদ্ম শিবিরের তরফে। এমনিতে যে ‘চিঁড়ে ভিজবে না’, তা ঠারেঠোরে বুঝতে পারছে বিজেপি নেতৃত্ব। যে কারণেই হঠাৎ বিজেপি বিধায়ক প্রতিনিধিদলের চিলা রায়কে তুলে ধরার প্রচেষ্টা। যদিও আনন্দময়ের যুক্তি, ‘তরাই রাজবংশী চেতনা মঞ্চ, বীর চিলা রায় সেনা, রাজবংশী জাগরণ মঞ্চের মতো একাধিক সংগঠন চিলা রায়ের নামে বাগডোগরা বিমানবন্দরের নামকরণ চেয়ে বারবার দরবার করছে। সংগঠনগুলির দাবি আমরা তুলে ধরেছি মন্ত্রীর কাছে।’

উত্তরবঙ্গের ৫৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে ৪৮টি কেন্দ্রেই রাজবংশীদের কমবেশি প্রভাব রয়েছে। ফলে ভোট বৈতরণি পার হওয়ার ক্ষেত্রে রাজবংশীদের সমর্থন বড় ফ্যাক্টর। তাছাড়া শক্তি পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে মাঠে নেমে পড়েছে প্রতিপক্ষ তৃণমূল। তাই বাগডোগরা বিমানবন্দরকে সামনে রেখে পালটা তাস ফেলতে চাইছে গেরুয়া শিবির। উল্লেখ্য, ’২১-এর ভোটে উত্তরবঙ্গে ৩০টি আসন দখল করেছিল বিজেপি। পরবর্তীতে দিনহাটা কেন্দ্রে সাংসদ নিশীথ প্রামাণিকের ইস্তফা, আলিপুরদুয়ারের সুমন কাঞ্জিলাল ও রায়গঞ্জের কৃষ্ণ কল্যাণীর দলত্যাগ, ধূপগুড়ির বিধায়ক বিষ্ণুপদ রায়ের মৃত্যু এবং ’২৪-এর ভোটে মাদারিহাটের বিধায়ক থেকে মনোজ টিগ্গার সাংসদ হয়ে যাওয়া। উপনির্বাচনের মধ্যে দিয়ে এই পাঁচটি আসন তৃণমূল দখল করায় উত্তরবঙ্গে বিজেপির বর্তমান বিধায়কের সংখ্যা ২৫। এই সংখ্যাটি বাড়িয়ে নিতে চাইছে গেরুয়া শিবির।

যদিও বাগডোগরা বিমানবন্দরের নতুন নামকরণ নিয়ে দীর্ঘদিন থেকেই নানা দাবি উঠছে, যা নতুন মাত্রা পেয়েছে বিমানবন্দর সম্প্রসারণের কাজ শুরু হতেই। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের মাধ্যমে প্রস্তাব পাঠাতে হয়। রাজ্যের সম্মতিতেই সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্র। এদিন আনন্দময়দের সে কথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মনে করিয়ে দিয়েছেন বলে বিজেপি সূত্রেই খবর। বিজেপির এই তৎপরতায় কটাক্ষ করতে ছাড়ছে না তৃণমূলও। উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহর প্রশ্ন, ‘অটলবিহারী বাজপেয়ীর সময় ছয় বছর কেন্দ্রের ক্ষমতায় ছিল বিজেপি। মোদি জমানাও ১১ বছর হয়ে গেল। এতদিন মনে পড়েনি চিলা রায়কে। এখন ভোট এসেছে বলে চিলা রায়ের শরণ?’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *