রাজা বন্দ্যোপাধ্যায়, আসানসোল: বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই তপ্ত হচ্ছে পশ্চিম বর্ধমানের রাজনৈতিক মাটি। বৃহস্পতিবার আসানসোলের (Asansol Violence) বারাবনিতে (Barabani) বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’কে (BJP Parivartan Yatra) কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল এলাকা। পুলিশের উপস্থিতিতেই দু’পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ব্যাপক গাড়ি ভাঙচুর এবং মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত বিশাল পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী।
এদিন কুলটির কল্যাণেশ্বরী মন্দির থেকে বিজেপির পরিবর্তন যাত্রার রথ বের হয়। রথটি বারাবনি বিধানসভার পানুরিয়া হাটতলায় পৌঁছাতেই উত্তেজনা ছড়ায়। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা অতর্কিতে রথের ওপর হামলা চালায়। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় ১০টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে বলে খবর।
রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ:
বিজেপির দাবি, পুলিশের সামনেই তৃণমূল (TMC) কর্মীরা এই হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপির কর্মীরা লাঠি দিয়ে পিটিয়ে তাদের দুই কর্মীর মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর ক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মীরা পুলিশের গাড়ি আটকে বিক্ষোভ দেখান। পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাঠি উঁচিয়ে জমায়েত ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া:
এই উত্তেজনার মাঝেই দোমহানি বাজার সংলগ্ন এলাকায় একটি সভা করেন বাঁকুড়ার প্রাক্তন সাংসদ তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ডাঃ সুভাষ সরকার। তিনি এই হামলার তীব্র নিন্দা করে বলেন, “বাংলার মানুষ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন, হামলা করে তা আটকানো যাবে না।” অন্যদিকে, তৃণমূলের বারাবনি ব্লক সভাপতি অসিত সিং সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, ভোটের আগে এলাকা উত্তপ্ত করতে বিজেপিই পরিকল্পনা করে এই কাজ করেছে।
