মালদা: যেন কোনও থ্রিলার সিনেমার চিত্রনাট্য! মাঝনদীতে নৌকো চালকের ছদ্মবেশ ধারণ করে ঝাড়খণ্ড থেকে আসা বড়সড় এক আগ্নেয়াস্ত্র পাচারের (Arms Smuggling) ছক ভেস্তে দিল মালদা জেলা পুলিশ। বুধবার গঙ্গাবক্ষে চালানো (Operation Ganga) এই বিশেষ অভিযানে পাঁচটি পিস্তল ও কার্তুজসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে এক ভিনরাজ্যের কারবারীকে। ধৃতের নাম সাব্বির আলম (২১)। তার বাড়ি ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ জেলার রাধানগর থানা এলাকায়।
পুলিশের কাছে গোপন সূত্রে খবর ছিল, ঝাড়খণ্ড থেকে গঙ্গা পেরিয়ে একদল দুষ্কৃতী কালিয়াচকে (Kaliachak) আগ্নেয়াস্ত্র পৌঁছে দিতে আসছে। কিন্তু কালিয়াচক সংলগ্ন গঙ্গার চরাঞ্চলে নজরদারি চালানো পুলিশের পক্ষে কঠিন ছিল, কারণ দূর থেকেই অচেনা কাউকে এলাকায় আসতে দেখলে সতর্ক হয়ে যেত পাচারকারীরা।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় কালক্ষেপ না করে কালিয়াচক থানার পুলিশ এক অভিনব পরিকল্পনা নেয়। পুলিশকর্মীরা সাধারণ মাঝির ছদ্মবেশ ধারণ করে নৌকো নিয়ে গঙ্গার চরে ওত পেতে থাকেন। পাচারকারীরা পুলিশকে সাধারণ নৌকো চালক ভেবে ভুল করে এবং নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছানোর চেষ্টা করে।
মাঝিদের বেশে থাকা পুলিশকর্মীরা পাচারকারীদের লক্ষ্য করতেই সাব্বির আলম নামের ওই তরুণকে হাতেনাতে পাকড়াও করেন। তবে বিপদ বুঝে তার দুই সঙ্গী তৎক্ষণাৎ নদীতে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতরে ঝাড়খণ্ডের সীমানার দিকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। ধৃত সাব্বিরের ব্যাগ তল্লাশি করে পুলিশ উদ্ধার করেছে, ৫টি ৭ মিলিমিটারের অত্যাধুনিক পিস্তল, ৫টি ম্যাগাজিন, ২১ রাউন্ড তাজা কার্তুজ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গিয়েছে, এই আগ্নেয়াস্ত্রগুলি কালিয়াচকের কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার বরাত পেয়েছিল সাব্বির। এই চক্রের শিকড় কতদূর বিস্তৃত এবং পলাতক দুই সঙ্গীর হদিশ পেতে ধৃতকে বৃহস্পতিবার মালদা জেলা আদালতে পেশ করে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হবে। জেলা পুলিশের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানান, ছদ্মবেশে করা এই অপারেশন পাচারকারীদের কাছে এক কড়া বার্তা।
