উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: রবিবার মাঝরাতের বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের রেশ কাটল না মঙ্গলবার সকালেও। আনন্দপুরের নাজিরাবাদে (Nazirabad) একটি নামী মোমো প্রস্তুতকারক সংস্থার (Momo manufacturing facility) গুদামে লাগা আগুন ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। যত সময় গড়াচ্ছে, ততই ঘনীভূত হচ্ছে মৃত্যুমিছিলের আশঙ্কা (Anandapur Hearth)। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৮ জনের। তবে স্থানীয়দের দাবি, কারখানার ভেতরে এখনও নিখোঁজ প্রায় ৩০ জন কর্মী।
মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, দমকলের পাঁচটি ইঞ্জিন ধিকিধিকি জ্বলতে থাকা আগুন নেভানোর চেষ্টা করছে। গুদামটিতে প্রচুর পরিমাণে রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার এবং পাম অয়েল মজুত থাকায় আগুনের তীব্রতা কমানো সম্ভব হচ্ছে না বলে বিশেষজ্ঞদের অনুমান। সোমবার সন্ধ্যায় আর্থ মুভার মেশিন এনে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু হলেও, ভিতরে আটকে থাকা ব্যক্তিদের বেঁচে থাকার আশা কার্যত ছেড়ে দিয়েছেন পরিজনরা। উদ্ধার হওয়া দেহগুলির অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে, পরিচয় নিশ্চিত করতে প্রশাসন এখন ডিএনএ পরীক্ষার সাহায্য নিচ্ছে। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও নিখোঁজদের হদিশ না মেলায় প্রশাসনের ওপর ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও কর্মীর আত্মীয়রা। তাঁদের অভিযোগ, উদ্ধারকাজে গাফিলতি রয়েছে।
কীভাবে একটি কারখানায় এত পরিমাণ দাহ্য পদার্থ মজুত রাখা হয়েছিল এবং সেখানে অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থা আদৌ ছিল কি না, তা নিয়ে বড়সড়ো প্রশ্ন উঠছে। পুলিশের বিশাল বাহিনী এলাকা ঘিরে রেখেছে। তবে আগুন সম্পূর্ণ না নেভানো পর্যন্ত উদ্ধারকাজ যে গতি পাবে না, তা মেনে নিচ্ছেন দমকল আধিকারিকরাও। আপাতত ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমেই মৃতদেহ শনাক্তকরণের প্রক্রিয়া শুরু করতে চলেছে প্রশাসন।
