Anand Dixit | ‘জীবন্ত মৃত্যু’র আড়াই বছর, চিকিৎসার খরচ ৪ কোটি! তবু সন্তানের নিষ্কৃতিমৃত্যু চায় না নিঃস্ব দীক্ষিত পরিবার – Uttarbanga Sambad

Anand Dixit | ‘জীবন্ত মৃত্যু’র আড়াই বছর, চিকিৎসার খরচ ৪ কোটি! তবু সন্তানের নিষ্কৃতিমৃত্যু চায় না নিঃস্ব দীক্ষিত পরিবার – Uttarbanga Sambad

শিক্ষা
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: হরিশ রানার সেই মর্মান্তিক মামলার স্মৃতি উসকে দিয়ে মুম্বইয়ে (Mumbai) এখন শিরোনামে ৩৫ বছর বয়সী আনন্দ দীক্ষিত (Anand Dixit)। গত আড়াই বছর ধরে এক ‘কোমা’ থেকে (Vegetative State) মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন তিনি। শরীরটা বেঁচে থাকলেও স্তব্ধ হয়ে গেছে প্রাণের স্পন্দন। আর এই লড়াইয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে পথে বসেছে তাঁর পরিবার।

২০২৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর এক কুয়াশাচ্ছন্ন রাতে উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরে ঘটেছিল সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনা। যে নতুন স্কুটারটি সেদিনই কিনেছিলেন, সেটিই কাল হয়ে দাঁড়ায় আনন্দের জীবনে। সেই থেকে পাইপের মাধ্যমে খাবার এবং মেশিনের সাহায্যে শ্বাসপ্রশ্বাস—এভাবেই কাটছে তাঁর দিন। বিগত ১৮ মাস ধরে ২৪ ঘণ্টার কেয়ারটেকার অর্জুন প্রজাপতি একটি চোখের পলক বা হাতের আঙুলের সামান্য নড়াচড়ার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন, কিন্তু সেই স্তব্ধতা আজও ভাঙেনি।

ছেলের চিকিৎসার খরচ মেটাতে গিয়ে দীক্ষিত পরিবার আজ নিঃস্ব। ৪ কোটি টাকার বেশি চিকিৎসার বিল মেটাতে গিয়ে জমি থেকে শুরু করে সারা জীবনের সঞ্চয়—সবই খুইয়েছেন তাঁরা। এর মধ্যেই মরার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো মুম্বইয়ের মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (BMC) ভেঙে দিয়েছে তাঁদের একমাত্র মাথা গোঁজার আশ্রয়টুকু। প্রোমোটারের সঙ্গে বিবাদের জেরে তাঁদের ঘর ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়া হয়, যখন তাঁরা হাসপাতালে ছেলের জীবন বাঁচানোর লড়াই লড়ছিলেন।

আনন্দের বাবার অভিযোগ, তাঁরা ‘আর্থিকভাবে লুণ্ঠিত’। একদিকে হাসপাতালের পাহাড়প্রমাণ বিল, অন্যদিকে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির বিমা প্রত্যাখ্যান তাঁদের আরও ৫০ লক্ষ টাকার ঋণের জালে জড়িয়ে দিয়েছে। আনন্দের মা আজও ছেলের ঘড়ি আর ফোনটা গুছিয়ে রাখেন, এই আশায় যে কোনও একদিন মিরাকল ঘটবে।

দীক্ষিত পরিবারের এই লড়াই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, বর্তমান বিমা ও চিকিৎসা আইন পরিবর্তন না হলে এ ধরনের ‘ভেজিটেটিভ স্টেট’ বা নিস্পন্দ অবস্থা শুধু রোগীর নয়, পুরো পরিবারের জন্যই একটি দীর্ঘমেয়াদী মৃত্যুদণ্ডের শামিল।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *