উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজিয়ে বাংলার শিক্ষিত যুবক এবং সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড় ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা। সোমবার মথুরাপুরের হাইভোল্টেজ জনসভা থেকে তিনি স্পষ্ট জানান, রাজ্যে পরিবর্তন হলে কেবল সরকার বদলাবে না, বদলাবে সাধারণ মানুষের ভাগ্যও। দুর্নীতির জাঁতাকলে পিষ্ট নিয়োগ প্রক্রিয়াকে পুনরুজ্জীবিত করতে শা এদিন এক অভাবনীয় ‘টাইমলাইন’ ঘোষণা করেছেন।
রাজ্যে দীর্ঘদিনের নিয়োগ জট কাটাতে অমিত শায়ের প্রতিশ্রুতি, “বিজেপি ক্ষমতায় আসার মাত্র দুই মাসের মধ্যে সমস্ত শূন্যপদ পূরণের প্রক্রিয়া শুরু হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই রাজ্যের প্রতিটি সরকারি শূন্যপদ পূরণ করা হবে। যারা বছরের পর বছর নিয়োগ বন্ধ থাকায় সরকারি চাকরির নির্ধারিত বয়সসীমা পেরিয়ে গিয়েছেন, তাঁদের জন্য স্বস্তির বার্তা দিয়ে শা ঘোষণা করেন, বিজেপি সরকার গড়লে আবেদনকারীদের জন্য ৫ বছরের বয়সের ছাড় দেওয়া হবে। শায়ের মতে, বাংলার যুবসমাজ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে শাসকের ব্যর্থতায়, তাই এই বিশেষ সুবিধা তাঁদের প্রাপ্য।
রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার ক্ষোভকে পুঁজি করে শা এদিন সপ্তম বেতন কমিশন নিয়ে মোক্ষম চালটি দিয়েছেন। তিনি বলেন, “গোটা দেশ যখন অষ্টম বেতন কমিশনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে, তখন বাংলার কর্মীরা ষষ্ঠ বেতন কমিশনের হারে পড়ে আছেন। বিজেপি ক্ষমতায় আসার মাত্র ৪৫ দিনের মধ্যে সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করা হবে।” গত ১৫ বছরে কর্মচারীদের সহযোগিতার বিনিময়ে তাঁরা কেবল বঞ্চনা পেয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অমিত শাহের এই ঘোষণাগুলো একদিকে যেমন লক্ষ্যহীন বেকার যুবকদের কাছে টানার চেষ্টা, অন্যদিকে বিশাল সংখ্যক সরকারি কর্মী ও তাঁদের পরিবারের ভোটব্যাঙ্ককেও টার্গেট করা হয়েছে। মথুরাপুরের সভা থেকে শাহের এই ‘গ্যারান্টি’ বাংলার মানুষ কতটা বিশ্বাস করে সেটাই এখন দেখার।
