উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: রাজ্যজুড়ে যখন ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (এসআইআর) নিয়ে রাজনৈতিক পারদ চড়ছে, ঠিক তখনই তিন দিনের সফরে আজ, সোমবার রাজ্যে আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা (Amit Shah)। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বঙ্গ বিজেপিকে (BJP) লড়াইয়ের মন্ত্র দিতে এবং সাংগঠনিক ফাঁকফোকর ভরাট করতেই তাঁর এই সফর বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বর্ষশেষের মুখে শার এই সফরসূচি ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতির অলিন্দে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
এদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর (Amit Shah Kolkata Schedule)। বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি চলে যাবেন সল্টলেকে বিজেপির রাজ্য দপ্তরে। সেখানে রাতেই রাজ্য বিজেপির কোর কমিটি এবং নির্বাচন কমিটির সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসবেন তিনি। সফরের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার দুপুরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়ার কথা তাঁর। এরপর বিকেলে মানিকতলার কেশব ভবনে আরএসএসের উত্তর, দক্ষিণ ও মধ্যবঙ্গের শীর্ষ প্রচারক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ দুই ঘণ্টার সমন্বয় বৈঠকে যোগ দেবেন শা। বুধবার সকালে ইসকন মন্দির দর্শনের পর হোটেল রাজকীয়তে রাজ্যের বিজেপি বিধায়ক ও সাংসদদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজন ও রণকৌশল নির্ধারণ বৈঠক করবেন তিনি।
এবারের সফরে অমিত শায়ের কইয়েও প্রকাশ্য জনসভা নেই, যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তবে সফরের শেষলগ্নে বুধবার বিকেলে সায়েন্স সিটি প্রেক্ষাগৃহে কলকাতা মহানগরীর মণ্ডল, জোন ও জেলা কার্যকর্তাদের নিয়ে তাঁর সভাটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। দলীয় সূত্রের দাবি, গত লোকসভা নির্বাচনে কলকাতার ৪৫টি ওয়ার্ডে বিজেপি অভাবনীয় লিড পেয়েছে। পাশাপাশি, আরজি কর কাণ্ডসহ সাম্প্রতিক নানা ইস্যুতে শাসক দলের প্রতি নাগরিক সমাজের ক্ষোভ বেড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে কলকাতার ১৪টি বিধানসভা কেন্দ্রকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দখল করতে চাইছে গেরুয়া শিবির। সায়েন্স সিটির সভা থেকে মহানগরীর নিচুতলার কর্মীদের সেই জয়ের পথই বাতলে দেবেন শা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটার তালিকা সংশোধনী প্রক্রিয়ায় কর্মীরা যাতে সক্রিয় থাকেন এবং কোনওভাবেই যেন প্রকৃত ভোটাররা তালিকা থেকে বাদ না পড়েন, সেই নির্দেশ দেবেন শা। পাশাপাশি প্রচারের মূল ইস্যু ও দিশা কী হবে, তার প্রাথমিক দিক নির্দেশ দিয়ে যাবেন তিনি। বুধবার সন্ধ্যার পর দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর এই তিন দিনের ম্যারাথন বৈঠক বঙ্গ বিজেপির অন্দরে কতটা প্রাণসঞ্চার করতে পারে, এখন সেটাই দেখার।
