Alipurduar information | বুক ভরা স্বপ্ন বনাম পেটের টান! মাধ্যমিক আসতেই মন খারাপ মইনুলের

Alipurduar information | বুক ভরা স্বপ্ন বনাম পেটের টান! মাধ্যমিক আসতেই মন খারাপ মইনুলের

ব্লগ/BLOG
Spread the love


সুভাষ বর্মন, ফালাকাটা: গত বছর এই সময় ছেলেটা মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছিল। কিন্তু পাশ করতে পারেনি। পারিবারিক অবস্থা ভালো নয়, তাই আর দ্বিতীয়বার পরীক্ষায় বসা হয়নি। তাই পড়াশোনা ছেড়ে কাজকর্মে মন দিয়েছে। কাজ বলতে পরিত্যক্ত বোতল কুড়োনো, কাচের মদের বোতল, প্লাস্টিকের জল বা ঠান্ডা পানীয়ের বোতল। এই কাজে ছেলেটার (Madhyamik dropout life wrestle) সঙ্গী হয়েছে তার খড়তুতো ভাই, যার আবার বাবা-মা কেউ নেই। দুই কিশোর আবর্জনা ঘেঁটে বোতল খুঁজে বস্তা ভর্তি করে। এরপর বোতলগুলি কারখানায় নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে। এভাবেই ওদের দিন কেটে যায়।

কিন্তু মাধ্যমিক পরীক্ষা আসতেই এক অদ্ভুত বিষাদ গ্রাস করেছে মইনুল আলিকে। স্কুল ইউনিফর্ম পরে ছেলেমেয়েরা যখন বাবা-মায়ের সঙ্গে পরীক্ষা দিতে যাচ্ছে, তখন সে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে থাকছে সেদিকে। বুকের ভেতর একটাই ধ্বনি বাজছে- আমি পারিনি। এদিকে সারাদিন মন খারাপ করে থাকলে তো পেট চলবে না। অগত্যা ভাই জামেনুল আলিকে নিয়ে বোতল সংগ্রহের কাজে লেগে পড়তে হয় তাকে।

বাড়ি মাথাভাঙ্গার হিন্দুস্থান মোড় এলাকা হলেও মইনুলদের রোজগারের উৎস আলিপুরদুয়ার (Alipurduar information)। ফালাকাটার রাইচেঙ্গা, আসাম মোড়, বালুরঘাট, শিশাগোড় ও আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের মেজবিল, পলাশবাড়ি, সাহেবপোঁতা, সোনাপুর, বাবুরহাট, ভান্ডানিহাট, শালকুমারহাট, নতুনপাড়া, সিধাবাড়ি, যোগেন্দ্রনগর এলাকায় প্রায়ই দুই ভাইকে দেখা যায়। মাধ্যমিকে ফেল করার পর প্রথমে টোটো কিনেছিল বছর ষোলোর মইনুল। কিন্তু রাস্তায় টোটোর অভাব নেই। সে পাল্লা দিয়ে পেরে ওঠেনি। রোজগার হচ্ছিল না। তাই বোতলবোঝাই বস্তাগুলিকে এখন সে ওই টোটো করেই কারখানায় নিয়ে যায়। মইনুলের বাবা সফিকুল আলি দিনমজুর। মইনুল জানাল, বয়স কম বলে সে ভিনরাজ্যে কাজ করতে যায়নি। জামেনুলের বয়স যখন মাত্র ৬ বছর, তখন তার বাবা ও মা দুজনই মারা যায়। এখন জামেনুলের বয়স ১৪, সে মইনুলদের বাড়িতে থাকে। জামেনুল পড়েছে ক্লাস এইট পর্যন্ত। পড়াশোনা নিয়ে আর এগোতে পারেনি।

বোতল কুড়োনোর ফাঁকে মইনুল বলে চলে, ‘গতবার এরকম সময় আমিও মাধ্যমিক দিচ্ছিলাম। কিন্তু ফেল করায় আর স্কুলে যাইনি। সংসার চলে না। তাই বোতল কুড়োতে শুরু করি।’ আর রোজগার? মইনুলের জবাব, ‘কোনওদিন দেড় হাজার, তো কোনওদিন এক হাজার টাকা। যা হয় দুই ভাই ভাগ করে নিই।’ ওরা আলিপুরদুয়ারের বিভিন্ন এলাকা থেকে বোতল সংগ্রহ করে মাথাভাঙ্গার একটি কারখানায় নিয়ে যায়। এত কম বয়সে ওদের কাজ করতে দেখে অনেকেই কথা বলতে এগিয়ে যান। সেরকমই কথা বলছিলেন শিশাগোড়ের এক প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক বাপ্পা সরকার। পরে তিনি বললেন, ‘দুজনকে দেখে খারাপ লাগছিল। জঞ্জাল ঘেঁটে বোতল কুড়োচ্ছিল। যে বয়সে স্কুলে পড়ার কথা, সেই বয়সে নোংরা ঘেঁটে উপার্জন করছে।’ ফালাকাটার এক পরিবেশপ্রেমী সংস্থার সম্পাদক সুজিত সরকারের বক্তব্য, ‘এই বয়সে এমন কাজ করা ঠিক নয়। হয়তো পরিস্থিতির চাপে রোজগারের এই পথ বেছে নিয়েছে। প্লাস্টিক পরিবেশের পক্ষে বিপজ্জনক। যেখানে অনেকে প্লাস্টিকের বোতল ফেলে দিচ্ছে। সেগুলি কুড়িয়ে ওরা পরিবেশকে একদিক থেকে রক্ষা করছে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *