ফালাকাটা: প্রশাসনের নজরদারি এড়িয়ে আলিপুরদুয়ার (Alipurduar Information) ১ ব্লকের শিলতোর্ষা নদীর (Shiltorsha River) চর থেকে অবাধে চলছে মাটি ও বালি পাচার (Soil Smuggling)। দিন-রাত ট্রাক এবং ট্র্যাক্টর বোঝাই করে সরকারি খাস জমির মাটি লুঠের অভিযোগে অবশেষে সরব হলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বৃহস্পতিবার আলিপুরদুয়ারের (Alipurduar) পূর্ব কাঁঠালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের গারারজোত এলাকায় এই পাচার রুখতে রুখে দাঁড়ান স্থানীয়রা। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সোনাপুর ফাঁড়ির পুলিশ। সাময়িকভাবে পাচার কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
শিলতোর্ষা নদী সংলগ্ন গারারজোত গ্রামে মূলত বেশ কিছু আদিবাসী পরিবারের বসবাস। তাঁদের দাবি, নদীর চরে তাঁদের দখলে থাকা প্রায় পাঁচ বিঘা জমির মাটি আর্থমুভার লাগিয়ে উপড়ে নিয়ে যাচ্ছে দুষ্কৃতীরা। স্থানীয় বাসিন্দা গালু মুন্ডা ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “উপরের মাটি তুলে নেওয়ার পর নীচ থেকে বালি ও পাথর বেরোচ্ছে, সেগুলোও নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ফলে তৈরি হচ্ছে গভীর গর্ত।” গ্রামবাসীদের আশঙ্কা, এভাবে মাটি কেটে গর্ত তৈরি করলে আগামী বর্ষায় নদীর জল অতি সহজেই গ্রামে ঢুকে বসতবাড়ি তছনছ করে দেবে।
আলিপুরদুয়ার-১ ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকায় কেবলমাত্র জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের রয়্যাল্টি এবং ড্রেজিংয়ের অনুমতি রয়েছে। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে কারও মাটি বা বালি কাটার রয়্যাল্টি নেই। দপ্তরের এই বক্তব্যের পর প্রশ্ন উঠছে, তবে কার মদতে দীর্ঘদিন ধরে এই চরের খাস জমি থেকে মাটি পাচার হচ্ছিল?
এদিন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান বিজেপির যুব মোর্চার জেলা সহ-সভাপতি বাবু দে। তিনি গ্রামবাসীদের সঙ্গে নিয়ে পাচার কাজে বাধা দেন। খবর পেয়ে সোনাপুর ফাঁড়ির পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং কাজ বন্ধের নির্দেশ দেয়। গ্রামবাসীদের হুঁশিয়ারি, যদি পুলিশ ও প্রশাসন স্থায়ীভাবে এই অবৈধ পাচার বন্ধ না করে, তবে আগামীতে তাঁরা আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন।
