আলিপুরদুয়ার: রবিবার সকাল থেকেই বেশ ফুরফুরে মেজাজে ছিলেন ৮৪ বছর বয়সি মিহিরকান্তি দত্ত। ঘুম থেকে উঠে একেবারে ‘রেডি’ হয়ে ৮৭ বছর বয়সি জংশন নিবাসী সত্যেন দে-কে ফোন করলেন, ‘আজ হাঁটা প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন তো?’ তার উত্তরে মজা করে সত্যেনবাবু বলেন, ‘আমরা তো এখনও চিরনবীন। প্রবীণ হলেও মন তো এখনও নবীন। গতবার অংশ নিয়েছিলাম। কিছু না হতে পারলেও বেশ আনন্দ করেছিলাম। আশা রাখছি এবারেও ভালোভাবেই হাঁটতে পারব।’ কথা হচ্ছিল ‘মানবিক মুখ’-এর আয়োজন নিয়ে। রবিবার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি প্রবীণদের নিয়ে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আলিপুরদুয়ার শহর সংলগ্ন দক্ষিণ পোরো ইকো পার্কে। এই নিয়ে এই অনুষ্ঠান দ্বিতীয় বর্ষে পড়ল।
৭৮ বছর বয়সি গায়ত্রী সেনগুপ্ত, বছর ৭৫-এর জয়শ্রী দাসকে পাসিং দ্য বল খেলতে খেলতে বলছিলেন, ‘পাড়ার বন্ধুদের সঙ্গে প্রচুর খেলেছি এটা। এমনকি চড়ুইভাতি করতে গিয়েও পরিবার, বন্ধুদের সঙ্গে খেলতাম। আজ আবার এত বছর পর খেলছি। খুবই আনন্দ হচ্ছে। সেই সময়কার সব কথা মনে পড়ে যাচ্ছে।’ একবার বয়স ৬০ পেরিয়ে গেলে সাধারণ মানুষ কিছুটা হলেও নানা দুশ্চিন্তায় ভোগেন এবং শারীরিকভাবে দুর্বল হতে থাকেন। এই সময় তাঁরা যাতে শারীরিক বা মানসিক কোনওভাবেই ভেঙে না পড়েন তার জন্য এই আয়োজন। প্রবীণ-প্রবীণাদের ছোটবেলায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে এই আয়োজন করে ‘মানবিক মুখ।’ খেলাধুলো, হইহুল্লোড় ও খাওয়াদাওয়াও ছিল। পাসিং দ্য বল, হাঁটা প্রতিযোগিতা, লক্ষ্যভেদ, অ্যারো রেসের মতো প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
গতবারও এই অনুষ্ঠানে হাঁটা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে প্রথম হয়েছিলেন ৮০ বছর বয়সি শ্যামল সরকার। বললেন, ‘এই নিয়ে দ্বিতীয়বার এলাম। গতবারের মতো আজকেও ফের ছোটবেলায় ফিরে গিয়েছিলাম। সারাদিন ভালোই কাটল।’ একই সুর ৬৯ বছরের অপর্ণা রায়ের গলায়। ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ৬৭ বছর বয়সি অণিমা সরকার বলেন, ‘বয়স হলে আমাদের কথা তো কেউ সেভাবে ভাবে না। এই সময় আত্মবিশ্বাসই হারিয়ে ফেলি। তার মধ্যে এই অনুষ্ঠান সাহস জোগাল।’
৬৩ বছরের গৌরী সাহা, ৬৮-এর শান্তিরানি সাহা খেলতে খেলতে বলেন, বহুদিন পর এত আনন্দ করলাম। এখানে এতজনের মাঝে সারাদিন কাটিয়ে বেশ ভালো লেগেছে। ওই সংস্থার সম্পাদক রাতুল বিশ্বাস বলেন, ‘প্রবীণদের একদিন খেলার মাঠে ফিরিয়ে এনে, তাঁদের ছোটবেলায় ফিরিয়ে দেওয়া, তেমনি চিন্তামুক্ত রাখা ও ভুল ভাবনা থেকে দূরে রাখার জন্য এই আয়োজন করা। সবমিলিয়ে খুবই ভালো অনুষ্ঠান হল আজ।’
