দামিনী সাহা, আলিপুরদুয়ার: নতুন বছরের প্রথম দিনটায় হাজারও আনন্দে মেতে ওঠে মানুষ। তার সঙ্গে আলিপুরদুয়ারের (Alipurduar) ছোট-বড় দোকানগুলিতে পয়লা বৈশাখ সিদ্ধিদাতা গণেশের আরাধনা দিয়ে শুরু হয়। বাঙালি ব্যবসায়ীদের বিশ্বাস, বছরের শুরুতে গণেশপুজো করলে সারাবছর ব্যবসা ভালো হবে। আর তাই এই সময় দোকানগুলি চাহিদামতো একাধিক ছোট-বড় গণেশের প্রতিমায় ভরে ওঠে। প্রতিটি মূর্তিই নিখুঁত এবং সুন্দর করে বানানো। তবে এই প্রতিমাগুলির কোনওটাই আলিপুরদুয়ারে তৈরি হয় না। এগুলি মূলত নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগর, কলকাতা কিংবা হাওড়া থেকে আমদানি করা হয়।
আলিপুরদুয়ারে তো বহু প্রতিভাবান মৃৎশিল্পী রয়েছেন। স্থানীয় শিল্পীরা এই ধরনের প্রতিমা তৈরি করেন না কেন! এবিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে নোনাই পালপাড়া এলাকার মৃৎশিল্পী গোপাল পাল বলেন, ‘আমরা মূলত দুর্গা, কালী, সরস্বতী, লক্ষ্মীর প্রতিমা বানাই। পয়লা বৈশাখের জন্য গণেশের ছোট ছোট মূর্তি বানানোর মতো নির্দিষ্ট ছাঁচ বা কাঠামো আমাদের কাছে নেই। তাছাড়া ওই মূর্তিগুলির জন্য নির্দিষ্ট কাঁচামাল এবং রংয়ের প্রয়োজন হয়। সেগুলি সবসময় এই অঞ্চলে পাওয়া যায় না।’
জংশন এলাকার আরেক মৃৎশিল্পী সুভাষ পালেরও এবিষয়ে একই মত। তাঁর কথায়, ‘কৃষ্ণনগর বা কলকাতার শিল্পীদের দীর্ঘদিন ধরেই এই ধরনের মূর্তি বানানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাঁদের মূর্তির ফিনিশিং, রং, মুখের অভিব্যক্তি সবকিছুই খুব নিখুঁত। আমরা শত চেষ্টা করলেও সেই মানের মূর্তি তৈরি করতে পারি না। তাই ব্যবসায়ীরা অর্ডারও দিতে চান না।’
অন্যদিকে, দশকর্মা ভাণ্ডারের ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, কৃষ্ণনগর থেকে অর্ডার দিয়ে এই মূর্তি আনানো বেশ খরচসাপেক্ষ। যদিও এলাকায় মূতিগুলি বেশ ভালোই বিক্রি হয়। এবিষয়ে নিউটাউন এলাকার এক দোকানদার দীপক সাহা বলেন, ‘আমি প্রতিবছর কৃষ্ণনগর থেকেই মূর্তিগুলি অর্ডার দিয়ে আনাই। দাম একটু বেশি বটে। তবে কৃষ্ণনগরের কাজ মন কেড়ে নেয়। এখানে যদি সেই মানের সুন্দর মূর্তি পাওয়া যেত, তাহলে অবশ্যই স্থানীয় শিল্পীদের কাছ থেকে কিনতাম।’
ঠাকুরের মূর্তি বিক্রির সময় ক্রেতারা মূর্তির সৌন্দর্য এবং মসৃণ ফিনিশিং দেখতে চান বলে জানালেন বড়বাজার এলাকার এক দোকানদার মৃণাল সাহা। তাঁর বক্তব্য, ‘মূলত এই কারণেই বাধ্য হয়েই বাইরে থেকে প্রতিমা আনাতে হয়। প্রায় পাঁচ, ছয় মাস আগে অর্ডার দিই। পয়লা বৈশাখ উপলক্ষ্যে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় হাজার প্রতিমা আমরা প্রত্যেক বছর আনাই।’
ক্রেতারাও কিন্তু বাইরের থেকে নিয়ে আসা এই প্রতিমাগুলির সৌন্দর্যের বিষয়ে সহমত পোষণ করছেন। শহরের বাসিন্দা পূর্ণিমা ঘোষ বলেন, ‘আমি প্রতি বছরই দোকানে গণেশ ঠাকুর বসাই। তবে স্থানীয় শিল্পীর হাতে বানানো ছোট প্রতিমা খুব একটা পাওয়া যায় না। বরং বাইরে থেকে আসা প্রতিমাগুলিই দেখতে সুন্দর। তাই আমাদেরও সেদিকেই ঝোঁক বেশি থাকে।’ একই মত অপর এক ক্রেতা রজত দত্তেরও। তাঁর মতে, ‘ঠাকুরের প্রতিমাগুলি সারাবছর দোকানে থাকে। বাইরে থেকে আনা প্রতিমাগুলির রংও সুন্দর। তাই ক্রেতাদের নজরও পড়ে। তাঁর সঙ্গে দোকানের সৌন্দর্যও বাড়ে।’
