আলিপুরদুয়ার: বুধবার তখন দুপুর আড়াইটের কাছাকাছি। তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। টিটু রায়, সুস্মিতা রায়রা কলেজ হল্ট এলাকার একটি দোকানে গিয়ে এসির খোঁজ শুরু করেন। সিলিং ফ্যানের পাশাপাশি টেবিল ফ্যানও ব্যবহার করা হয়, তবুও কোনও পরিবর্তন নেই। এমন অস্বস্তিকর আবহাওয়ায় এসি যেন আবশ্যক হয়ে উঠেছে সবার কাছে। শুধু এসি নয়, পুরোনো বাজার এলাকার ফ্যানের দোকানেও খুব ভিড়। শক্তি রায়ও এসেছেন ফ্যান কিনতে।
গত তিন-চারদিনে ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনার, কুলারের দেদার চাহিদা। সকাল হতে হতেই গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা। বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই সেই তাপমাত্রা আরও চরমে যাচ্ছে। সামান্য কাজ করতে গিয়েও নাজেহাল হয়ে যাচ্ছেন সকলে। বাইরে কাজের ফাঁকে কখনও রাস্তার ধারে গাছের ছায়ায়, কখনও আবার কোনও দোকান কিংবা শপিং মলে ঢুকছেন সাধারণ মানুষ।
এমনি সময়ে ফ্যান, এসি ও কুলার মোটামুটি বিক্রি হলেও গত তিন-চারদিনে সেই বিক্রি প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে। ফ্যান ১৫০-এর ওপর বিক্রি হচ্ছে। আবার এসিও ১৫-এর মতো বিক্রি হয়ে গিয়েছে। গরমে বাধ্য হয়েই কিনতে হচ্ছে এসি। পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, বিক্রেতাদের মুখে হাসি। গরমে লক্ষ্মীলাভ তো হচ্ছে।
ক্রেতা টিটু রায়, সুশান্ত রায়রা জানান, এসি কিনতে এসেও ভিড়ের মুখে পড়েন তাঁরা। ফ্যান কিনতে আসা অনিমেষ পোদ্দার বলেন, ‘ফ্যান তো আছেই। কিন্তু এই গরমে আরও ফ্যান দরকার। তাই এসেছি।’ শিবম দে অবশ্য এসেছেন এসি কিনতে। এসির নানা ভ্যারিয়েন্ট দেখার ফাঁকেই বলেন, ‘গরমের জেরে এসি কিনতেই হবে। আর পারা যাচ্ছে না। এত গরমে ঘুমও হচ্ছে না কয়েকদিন ধরে।’ শক্তি রায় অবশ্য পেডেস্টাল ফ্যান কিনতে এসেছিলেন।
এদিকে গরমের জেরে বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফুটেছে। ব্যবসায়ী শুভজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘প্রতিদিনই ১৫০-এaর ওপর স্ট্যান্ড ফ্যান বিক্রি হচ্ছে। মঙ্গলবার ১৯০টা ফ্যান বিক্রিও হয়ে গিয়েছে। ব্যবসা ভালোই চলছে।’ আরেক ব্যবসায়ী বান্টি রায়ের মুখে চওড়া হাসি। তাঁর কথায়, ‘গরমের জন্য লক্ষ্মীলাভ আমাদের হচ্ছে।’ বিক্রেতা অনুপ চক্রবর্তীও একগাল হাসি নিয়ে বললেন, ‘প্রতিদিনই এসি কিনতে ভিড় হচ্ছে। ১২-১৫ তা বিক্রি হয়েই যাচ্ছে। অন্য সময় মাসে দু’ থেকে তিনটা হয়।’ আপু ঘোষও তাঁর কথায় সায় দেন।
