আয়ুষ্মান চক্রবর্তী, আলিপুরদুয়ার: আপাতদৃষ্টিতে দেখলে মনে হবে ময়ূর। খুঁটিয়ে দেখলে নজরে পড়বে, ময়ূরের পেখমজুড়ে লেখা রয়েছে ইংরেজিতে সপ্তাহের সাতদিনের নাম। আবার কোথাও দেওয়ালজুড়ে সৌরজগৎ। আলিপুরদুয়ার জেলার (Alipurduar) রাজাভাতখাওয়া এলাকার বইগ্রাম পানিঝোরা এখন ছবিতে ছবিতে ছয়লাপ। ছোট ছোট বাচ্চার জন্য গোটা গ্রামে আঁকা হচ্ছে নানা শিক্ষামূলক ছবি, যা তাদের পড়াশোনা ও মানসিক বিকাশে সহায়ক। পরিচালনায় সেই ‘আপনকথা’ সংস্থা।
ইতিমধ্যেই সপ্তাহের ইংরেজি, বাংলা, হিন্দি ও সাদরি ভাষায় সাতদিন, বারো মাস ও ছয় ঋতুর নাম, প্রাথমিক ব্যাকরণ, সৌরজগৎ ও বিভিন্ন জ্যামিতিক আকারের পরিচয় আঁকা হয়ে গিয়েছে। নামতা, সাধারণ জ্ঞান ও বিজ্ঞান বিষয়ক ছবি আঁকার প্রস্তুতি চলছে। সেইসঙ্গে ডিজিটাল লার্নিংয়ের জন্য গ্রামের একটি কমিউনিটি হলে টিভি বসানো হয়েছে, যেখানে শিক্ষামূলক ভিডিও ও মজাদার ভিডিও দেখানো হবে।
শিক্ষাবিদরা অনেক সময়ই বলেন, একেবারে খুদেরা অর্থাৎ পাঁচ বছরের মধ্যে যাদের বয়স, তারা ছবি দেখে বা খেলাচ্ছলে অনেক কিছু সহজে শিখতে পারে। যে ধারণা থেকেই প্লে স্কুলের জন্ম। সেখানে বিভিন্ন খেলনা, ছবি ও ভিডিওর মাধ্যমে বাচ্চাদের শিক্ষাদান করা হয়। গ্রামে প্লে স্কুল নেই। তবে আর আক্ষেপও নেই। পানিঝোরা গ্রামের একাধিক বাড়ি ও কমিউনিটি হলের দেওয়ালকে রং ও তুলির সাহায্যে রাঙিয়ে তোলা হচ্ছে।
পুজোর ছুটি শেষ। ফের স্কুল খুলেছে। বইগ্রাম পানিঝোরায় গেলে দেখা যাচ্ছে, গ্রামের অনুরাগ ছেত্রী, শুভজিৎ রাভারা কৌতূহলী চোখ নিয়ে ড্যাবড্যাব করে ছবিগুলো দেখছে। তৃতীয় শ্রেণির অনুরাগের কথায়, ‘স্কুলে তো পড়াশোনা হয়। গ্রামে এরকম ছবি আঁকা দেখতে খুব ভালো লাগছে। অনেককিছু শিখতে পারছি। স্কুলে যাতায়াতের সময়ও এগুলো দেখা যাচ্ছে, তাই পড়া মনে রাখতে সুবিধা হচ্ছে।’
আপনকথার সম্পাদক পার্থ সাহা বলছেন, ‘গ্রামের বাচ্চাদের উৎসাহিত করতে ডিজিটাল ভাবে ও গোটা গ্রামের দেওয়ালে ছবির মাধ্যমে উপস্থাপন করে পড়াশোনার প্রতি আকর্ষণ বৃদ্ধি ও স্কুলমুখো করার চেষ্টা করছি। গোটা গ্রামটা বইয়ের পাতা হয়ে উঠছে। আমাদের লক্ষ্য বইগ্রামকে শিশুশিক্ষাসহায়ক গ্রামে পরিণত করা।’
