Alipurduar |  জীবনসায়াহ্নে সম্মানিত বিষহরাশিল্পী রতনবালা

Alipurduar |  জীবনসায়াহ্নে সম্মানিত বিষহরাশিল্পী রতনবালা

খেলাধুলা/SPORTS
Spread the love


সুভাষ বর্মন, পলাশবাড়ি: গিদালের মেয়ে গিদালি হয়েছিলেন। টানা পঞ্চাশ বছর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে বিষহরি গান করেছেন। কিন্তু শতবর্ষের দোরগোড়ায় এসে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার জন্য স্বেচ্ছায় গান থেকে অবসর নেন। গড়ে দেন নতুন দল। এখন ৯৪ বছর বয়সে লাঠি ছাড়া হাঁটতে পারেন না রতনবালা বর্মন৷ একেবারেই প্রচারের আলোর বাইরে আলিপুরদুয়ার (Alipurduar)-১ ব্লকের পূর্ব কাঁঠালবাড়ি পঞ্চায়েতের মেজবিলের রতনবালা সোমবার জীবনে প্রথম সম্মান পেলেন। পলাশবাড়ির নাচ, গানের সংগঠন ললিতকলা অ্যাকাডেমি এদিন বাড়িতে এসে তাঁকে স্মারক দিয়ে সম্মান জানায়৷ নবতিপর লোকশিল্পীর স্মারক নিতে হাত কাঁপছিল। তবে দাঁতভাঙা অবস্থায় মুখে ফুটে উঠল একগাল হাসি। যেন এতদিনে বিষহরি গান করে তাঁর জীবন সার্থক।

ললিতকলা অ্যাকাডেমির দুই প্রতিনিধি বিকাশ বর্মন ও প্রণবকুমার সেন এদিন সকালেই যান শিল্পীর বাড়িতে। নিজের খোঁজে কেউ এসেছে এমনটা শুনে টিনের চালাঘরের ভেতর থেকে লাঠি হাতে ধীরে ধীরে বের হলেন রতনবালা। বসলেন চেয়ারে। তারপর তাঁর গানের সফর কাহিনী শুনলেন দুই প্রতিনিধি। বিকাশের কথায়, ‘প্রতিবার অ্যাকাডেমির বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়। অনেক চেষ্টা করে এই প্রবীণ লোকশিল্পীদের সন্ধান করি। এদিন তাঁকে উত্তরীয় পরিয়ে স্মারক দিয়ে সংবর্ধিত করতে পেরে আমরা গর্বিত।’ তবে আরেক সদস্য প্রতিনিধি প্রণবকুমারের গলায় কিছুটা উৎকণ্ঠার সুর। তাঁর বক্তব্য, ‘বছরের পর বছর ধরে লোকসংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখেন যাঁরা তাঁরাই আজ অবহেলিত। সরকারিভাবে এই লোকশিল্পীরা সম্মান পেলে ভালো লাগত।’

ততক্ষণে বাড়ির উঠোনে প্রতিবেশীদেরও ভিড়। রতনবালার বাবা চকর বর্মন ছিলেন পেশাদার লোকশিল্পী। তাঁকে সকলে ‘চক্রবর্তী গিদাল’ নামেই ডাকতেন। বাড়ি ছিল পলাশবাড়ির গোয়ালেরজোতে। বিয়ের আগে মেয়ে রতনবালা অবশ্য সেভাবে বাবার কাছে গান শেখেননি। অল্প বয়সেই বিয়ে হয়ে আসেন মেজবিলে। সংসারে মন দেন।

কিন্তু গিদালের কন্যা গান ছাড়া থাকবেন কীভাবে? বিয়ের পর বাবার পথ অনুসরণ করে আরও চারজনকে নিয়ে গড়ে তোলেন নিজের দল। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে আমন্ত্রণ পেলেই যেতেন। রতনবালা স্মৃতি হাতড়ে বললেন, ‘ভাটিবাড়ি, আলিপুরদুয়ার, ঘোকসাডাঙ্গা সহ আরও নানা জায়গায় বিষহরি গান করেছি। রাতের পর রাত জেগেছি। এভাবে পঞ্চাশ বছর গানের দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম।’ তাঁর দলের বাকি সদস্যদের মৃত্যুতে একা হয়ে পড়েন। তাই পাঁচ বছর হল স্বেচ্ছায় গান থেকে অবসর নেন। তবে এই ধারা যাতে বজায় থাকে সেজন্য নিজেই আবার কয়েকজন বধূকে নিয়ে আরেকটি বিষহরি গানের দল গড়ে দিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘আমার বয়স এখন ৯৪। বেশিদিন তো বাঁচব না। তাই গানের সামগ্রী দান করে একটি নতুন দল গড়ে দিয়েছি। এখন ওঁরা গান করেন।’

রতনবালার স্বামী ভুবনেশ্বর বর্মন অনেক আগেই প্রয়াত হন। তিনি পিডব্লিউডির গ্রুপ-ডি চাকরি করতেন। তাঁর মৃত্যুর পর বড় ছেলে ফুলেশ্বর বর্মন একই পদে বাবার চাকরি পান। বড় ছেলের বাড়িতেই থাকেন শিল্পী। মেজো ছেলে ধনেশ বর্মনের ভিন্ন সংসার। ছোট ছেলে অঙ্কেশ্বর বর্মন মারা গিয়েছেন। এক মেয়ে শান্তিবালার বিয়ে হয়েছে। স্বামীর পেনশন পান রতনবালা। এজন্য লোকশিল্পীর ভাতা মেলেনি। দাঁত নেই। চোখে কম দেখেন। কানে কম শোনেন। কোমরে ব্যথা। ফুলেশ্বর বললেন, ‘জন্মের পর থেকেই মাকে বিষহরি গান করতে দেখেছি।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *