সায়ন দে, আলিপুরদুয়ার: বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। এক অনুষ্ঠান শেষ হতে না হতেই, আরেক অনুষ্ঠান উদযাপন করতে বাঙালি মুখিয়ে থাকে। তাই দুর্গাপুজো, কালীপুজো গেলেও, শেষ হয় না বাঙালির উৎসবের মরশুম। ছটপুজোর পরই জগদ্ধাত্রীবন্দনায় মেতে উঠবেন আলিপুরদুয়ারের (Alipurduar) মানুষ। তবে, আগের সেই জৌলুস না থাকলেও পুজো কমিটির উদ্যোক্তারা নিজেদের ঐতিহ্য ও আবেগকে টিকিয়ে রাখতে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সোমবার শহরের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের সারদাপল্লি এলাকায় গিয়ে দেখা গেল জগদ্ধাত্রীপুজোকে ঘিরে সেখানে জোরকদমে প্রস্তুতি চলছে। সেখানে মণ্ডপের বাঁশের কাঠামো প্রায় প্রস্তুত। এবছর সারদাপল্লির পুজো চতুর্থ বর্ষে পদার্পণ করল। সেখানকার উদ্যোক্তাদের মুখেই শোনা গেল এবারের পুজোর আয়োজনের কথা। জানা গেল, এবারে তাঁদের বাজেট কিছুটা বেড়ে হয়েছে আনুমানিক দেড় লক্ষ টাকা। স্বভাবতই, তুলনামূলকভাবে পুজোর বহরও বেড়েছে। ২৯ তারিখ এলাকার মহিলারা হলুদ কোটা রীতি পালন করেন, সন্ধ্যায় গঙ্গা নিমন্ত্রণ করার পর শোভাযাত্রা করে প্রতিমা নিয়ে আসবেন। প্রতিমার উচ্চতা এবার ৮ ফুট। পরদিন সকাল থেকেই শুরু হবে পুজো। সেদিনই সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীর পুজো করা হবে। পুজোর দিন সকালে হবে কুমারীপুজো। বক্সিরহাট থেকে কুমারীকে নিয়ে আসা হবে। সন্ধ্যায় বসবে কীর্তন ও ভাগবত পাঠ।
এরপর শুক্রবার দশমীতে হবে ঘট বিসর্জন। তবে প্রতিমা মণ্ডপেই থাকবে। সেদিনই রাতে বাউলগানের আয়োজন করা হবে। পুজো কমিটির সদস্য মণীশ সাহা বললেন, ‘যেহেতু সরকারিভাবে এই পুজোয় আমরা কোনও সহযোগিতা পাই না তাই চাঁদা তুলেই পুজো করতে হয়। পুজোকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন নিয়মের পাশাপাশি প্রসাদ বিতরণও করা হয়। সকলের সহযোগিতায় প্রতি বছর আমরা এই পুজো করে আসছি।’
অন্যদিকে, শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর দেবীনগরের ঐতিহ্যবাহী জগদ্ধাত্রীপুজো এবছর ৭৩ বছরে পড়ল। স্থায়ী মন্দিরেই এই পুজো করে আসছেন তাঁরা। সকাল দশটায় পুজো শুরু হয়ে চলবে সন্ধ্যা পর্যন্ত। পুজো কমিটির কোষাধ্যক্ষ অমৃত পাল বলেন, ‘এই পুজো ৭৩ বছর হলেও, ৪০ বছর আগে মন্দির প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এখন আমরা মন্দিরটি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছি। মন্দিরের সামনে নাটমঞ্চও তৈরি করা হচ্ছে।’ মন্দির সূত্রে জানা যাচ্ছে, অতীতে মা মাটির প্রতিমায় পূজিত হতেন। ২০ বছর আগে মন্দির কমিটি ও স্থানীয় বাসিন্দারা চাঁদা তুলে জয়পুর থেকে শ্বেতপাথরের মূর্তি আনেন। তারপরও সেই শ্বেতপাথরের মূর্তির পাশে মাটির প্রতিমা রেখে পুজো হত। কিন্তু এখন সেই মাটির প্রতিমায় পুজো আর হয় না। শ্বেতপাথরের মূর্তিতেই পূজিত হয়ে আসছেন মা।
শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে দর্শনার্থীরা এই পুজো দেখতে আসেন। মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে এবারও এক কুইন্টাল খিচুড়ি বিতরণ করা হবে। সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হবে ধুনুচিনাচ।
