ফালাকাটা: ফালাকাটা-সলসলাবাড়ি মহাসড়কের কারণে ভাঙা পড়েছে মাথা গোঁজার ঠাঁই আর দীর্ঘ ৪০ বছরের রুটিরুজি। কিন্তু মেলেনি সরকারি পুনর্বাসন। তাই বাধ্য হয়েই এবার মুখ্যমন্ত্রী ও জেলা পরিষদের উদ্দেশ্যে খোলা চিঠি লিখে প্রতিবাদের পথ বেছে নিলেন আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের (Alipurduar) পূর্ব কাঁঠালবাড়ির ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা বুদেশ্বরী বর্মন।
শালকুমার মোড়ে দীর্ঘ চার দশক ধরে চায়ের দোকান চালাতেন বুদেশ্বরী দেবী। বৃদ্ধার স্বামী অনেক আগেই মারা গিয়েছেন। সন্তানও নেই। নিঃসন্তান এই বৃদ্ধার নিজের বাড়ি বলতেও কিছু নেই, ওই দোকানই ছিল তাঁর ঠিকানা। সম্প্রতি রাস্তা তৈরির জন্য দোকানটি ভেঙে দেওয়া হয়। এখন তিনি ভাইপোর বাড়িতে থাকেন। তাঁর অভিযোগ, পলাশবাড়ির ব্যবসায়ীরা জেলা পরিষদের উদ্যোগে পুনর্বাসন পেলেও, শালকুমার মোড়ের ব্যবসায়ীরা ব্রাত্যই থেকে গিয়েছেন। বর্তমানে নতুন পাকা রাস্তার মোড়ে একটি ছাতা খাটিয়ে প্রবল দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে ফের দোকান শুরু করেছেন তিনি।
শালকুমার মোড়ের চারদিকে চারটি বড় ফ্লেক্স টানিয়েছেন তিনি। সেখানে তাঁর বর্তমান ও পুরোনো দোকানের ছবির পাশাপাশি রয়েছে তাঁর করুণ আর্তি। তাঁর কথায়, ‘আমাকেও পলাশবাড়িতে পুনর্বাসন দিতে হবে। এখন আপাতত ছাতা লাগিয়ে নতুন পাকা রাস্তার মোড়েই দুর্ঘটনার ভয় নিয়েই কোনওরকমে দোকান করছি। সরে যেতে বললেই এই ছাতার দোকানও যখন তখন গুটিয়ে নিতে হবে।’
একসময় শিলবাড়িহাট ব্যবসায়ী সমিতির সঙ্গে আন্দোলনে সামিল হওয়া এই বৃদ্ধা এখন জীবন সায়াহ্নে এসে একা লড়াই করছেন। বিষয়টি নিয়ে আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদের সহকারি সভাধিপতি মনোরঞ্জন দে জানান, তিনি পুরো বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন এবং বুদেশ্বরী দেবীর পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন।
The put up Alipurduar | উচ্ছেদ হলেও জোটেনি পুনর্বাসন, মুখ্যমন্ত্রীর নামে ফ্লেক্সে ‘খোলা চিঠি’ ঘরহারা বৃদ্বার appeared first on Uttarbanga Sambad.
