মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ক্ষেপণাস্ত্রে হাত পুড়ছে বঙ্গের রপ্তানি বাণিজ্য। বাংলার কলমি শাক, লাউ, সিম, উচ্ছে থেকে কচুর মুখী সব আটকে। বিমান বন্ধ। যেটুকু উড়ছে, তার পেটে রপ্তানির কৃষিপণ্য ভরতে গিয়ে হাত পুড়ছে রপ্তানিকারকদের। এক কেজি পণ্য পাঠাতে আগে লাগত মেরেকেটে ১৭৫ টাকা। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫০ টাকায়। ভাড়াবৃদ্ধি প্রায় পাঁচগুণ। তাছাড়া দুবাই-সহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কিছু দেশের উড়ান বন্ধ। ফলে শিয়রে সংক্রান্তি বাংলার কৃষি রপ্তানিতে।
আরও পড়ুন:
শুক্রবার কেন্দ্রীয় এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড প্রসেসড ফুড প্রোডাক্ট এক্সপোর্ট ডেভলপমেন্ট অথরিটি (অ্যাপেডা) দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ বৈঠক করে। সেখানে কলকাতা তো বটেই, দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বই থেকে চেন্নাই, বেঙ্গালুরু সব জায়গার রপ্তানিকারকদের দীর্ঘশ্বাস উঠে আসে। অ্যাপেডার চেয়ারম্যান অভিষেক দেব, কলকাতা অফিসের আঞ্চলিক অধিকর্তা সীতাকান্ত মণ্ডল ছিলেন। তাঁরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। চেষ্টা চলছে বিশেষ কার্গো বিমান চালুর।
রপ্তানিকারক মৃণাল সিনহা বলেন, ‘‘ইউরোপিয়ান দেশগুলিতে এয়ার ইন্ডিয়া কেজি পিছু যা ভাড়া বাড়িয়েছে, তা দিতে হলে লাভ দূরের কথা, ক্ষতির বোঝা বওয়া মুশকিল। সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস চারশো টাকার বেশি চাইছে। কিন্তু ব্যবসা চালাতে গেলে রপ্তানি করতেই হবে। না হলে টাকা আটকে থাকবে।”
যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দোহা, দুবাই, কাতারের বিমান বন্ধ। আমেরিকায় পণ্য পাঠানোর কথা ভাবাটাই দুঃস্বপ্ন। ইউরোপিয়ান দেশগুলি বাংলার কৃষিপণ্যের বড় ক্রেতা। ইতালি, জার্মানি, ফ্রান্স, লন্ডন আমাদের কাঁচালঙ্কা থেকে করলা, পটল, মুলো, সিম, লাউয়ের বড় ভক্ত। এছাড়া ভেন্ডি, কাঁচালঙ্কা, কাঁকরোলও রয়েছে। সিঙ্গাপুর চায় কলমিশাক। তা ছাড়া লন্ডনে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে প্রতিদিন শুধু পান যায় আড়াই হাজার কেজি। সব বন্ধ।
এদিনের বৈঠকে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের রপ্তানিকারকদের সংগঠন এফএফভিই এক্সপোর্টারস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি অঙ্কুশ সাহা। তিনি বলেন, ‘‘মধ্যপ্রাচ্য জ্বলছে আর চরম সমস্যায় আমাদের কৃষিপণ্য রপ্তানি। লন্ডনে এক কেজি পণ্য পাঠাতে লাগত ১৫০ থেকে ১৯০ টাকা। এখন চাইছে সাড়ে সাতশো টাকা! কাতার এয়ারলাইনস, এমিরেটস তো বন্ধ। দোহা, দুবাই বন্ধ। স্পাইসজেট কিছু বিমান মুম্বই ও দিল্লি থেকে দুবাই চালাচ্ছে। কিন্তু বঞ্চিত কলকাতা। এমনিতে এখান থেকে বিমান চলে কম। বিষয়টি কেন্দ্র দেখুক।’’ অর্থাৎ এখানে খুচরো বাজারে যে কাঁচালঙ্কা ১০০ টাকা কেজি তা লন্ডনে পাঠাতেই ভাড় গুনতে হবে তার সাত গুণ!
এক কেজি পণ্য পাঠাতে আগে লাগত মেরেকেটে ১৭৫ টাকা। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫০ টাকায়। ভাড়াবৃদ্ধি প্রায় পাঁচগুণ। তাছাড়া দুবাই-সহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কিছু দেশের উড়ান বন্ধ। ফলে শিয়রে সংক্রান্তি বাংলার কৃষি রপ্তানিতে।
আর এক রপ্তানিকারক মৃণাল সিনহা বলেন, ‘‘ইউরোপিয়ান দেশগুলিতে এয়ার ইন্ডিয়া কেজি পিছু যা ভাড়া বাড়িয়েছে, তা দিতে হলে লাভ দূরের কথা, ক্ষতির বোঝা বওয়া মুশকিল। সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস চারশো টাকার বেশি চাইছে। কিন্তু ব্যবসা চালাতে গেলে রপ্তানি করতেই হবে। না হলে টাকা আটকে থাকবে। রাজ্য বা কেন্দ্র ওসব নিয়ে ভাবে না। শনিবার থেকে দুবাই-সহ মধ্যপ্রাচ্য বন্ধ। এখন কথা চলছে আগামী সোমবার থেকে এমিরেটস একটি করে কার্গো বিমান চালাবে। যদি কিছুটা সুরাহা হয়।’’
আরও পড়ুন:
অ্যপেডার আঞ্চলিক অধিকর্তা সীতাকান্ত মণ্ডল বলেন, ‘‘দেশের রপ্তানিকারকদের বৈঠকে সমস্যাগুলো নিয়ে কথা হয়েছে। শুধু বিমান নয়, জলপথেও তো সমস্যা তৈরি হয়েছে। সেগুলো কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে। তবে এই ধরনের সমস্যা এর আগেও হয়েছে। চেষ্টা চলছে কলকাতা থেকে কার্গো বিমান চালানোর।’’
সর্বশেষ খবর
