প্রিয়দর্শিনী বিশ্বাস, শিলিগুড়ি: মৃৎশিল্পীর ভাবনায় এখন থাবা বসাচ্ছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) (AI generated Saraswati Idols)। মানুষ এখন সব কিছুতেই চায় নতুনত্ব, একটু অন্যরকম কিছু। তাই এই সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে হঠাৎ ভাইরাল হওয়া যে কোনও জিনিসের ওপর তাঁদের ঝোঁক। এই ভাইরাল জ্বরের প্রভাব পড়েছে মূর্তিতেও। গত বছর গণেশপুজো, দুর্গাপুজোতেও দেখা গিয়েছিল একটু অন্যরকম মূর্তি। এআই দিয়ে তৈরি ছবি মৃৎশিল্পীকে দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল মূর্তিগুলি। এআই, অ্যানিমি ভাবনার ছবিগুলো হয়ে থাকে খানিকটা বাচ্চাদের মুখের আদলে। তাই সেই মূর্তি গড়ে উঠেছিল গোল গোল মুখ, বড় বড় চোখ, মুখে ফুটে ওঠা এক স্নেহ-মায়া-হাসিতে। দেখলে মনে হবে এ যেন এক মিষ্টি ছোট বাচ্চা। সেই ছবি দেখে মৃৎশিল্পীরা তৈরি করেছিলেন প্রতিমার মূর্তি। এমন প্রতিমাকে সবাই ডাকছে ‘কিউট ঠাকুর’ নামে।
এবছর সরস্বতীপুজোর আগে শহরের কুমোরটুলিজুড়ে সেই সাজের বহু প্রতিমা লক্ষ করা যাচ্ছে। মৃৎশিল্পীরা বলছেন এখন এমন প্রতিমার খুব চাহিদা রয়েছে। এই প্রথম সরস্বতীপুজোয় তাঁরা এমন মূর্তি তৈরি করছেন। আগে কখনও করেননি।
মৃৎশিল্পী সুদেব পাল বলছিলেন, ‘ব্যবসার জন্য এমন অর্ডার এলে ফিরিয়ে দিতে পারব না। তবে দেবীমূর্তির যে শান্ত মুখটা বছরের পর বছর ধরে গড়ে তুলেছি সেটা করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করব। তবে আমি শিল্পী মানুষ তাই আমাকে যেমন অর্ডার দেওয়া হবে আমি তেমন তৈরি করে দিতে বাধ্য।’
মৃৎশিল্পীরা বলছেন এতদিন তাঁরা মূর্তি গড়তেন নিজেদের মতো করে। এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা ঠাকুরের বিভিন্ন ছবি অথবা এআই-এর সাহায্যে নানা মডেল তৈরি করে সেই ছবি এনে আমাদের দেখিয়ে তেমন করে মূর্তি গড়ে দিতে বলা হচ্ছে।
মৃৎশিল্পী সুরজিৎ পাল বলছিলেন, ‘শিলং থেকে অর্ডার এসেছে, তাঁদের জন্য একটা প্রতিমা তৈরি করছি। ওঁরা ছবি পাঠিয়েছিলেন। ইন্টারনেটে এখন এই প্রতিমার ছবি খুব দেখা যাচ্ছে। সেটা ওঁদের জন্য তৈরি করছি আর যেহেতু এটার বেশ চাহিদা রয়েছে এ বছর তাই আলাদা করেও কয়েকটা এরকম মূর্তি তৈরি করেছি। কেউ এসে পছন্দ করলেই কিনতে পারবেন।’ পাহাড়ের আরও একটি অর্ডার আছে যেখানে পেছনে ব্রহ্মার মূর্তি আর সামনে সরস্বতীর মূর্তি করতে বলা হয়েছে।
আরও এক মৃৎশিল্পী বলছিলেন, ‘এবার তিনি ৩-৪টে অন্যরকম মূর্তি তৈরির অর্ডার পেয়েছেন। কাজটা করতে ভালোই লাগছে। এই প্রথমবার তৈরি করছেন। তবে এতে খাটনি বেশি, কারণ এই মূর্তিগুলো একটু অন্যরকম আবার প্রতিমার মুখটাও বড় হয়, ডাইসের বদলে হাতে তৈরি করতে হচ্ছে তাই স্বাভাবিকভাবে দামটাও বেশি পড়ে যায়। এই ধরনের বড় মূর্তিগুলোর দাম পড়ছে ২০-২৫ হাজার টাকা, ছোট মূর্তিগুলোর দাম প্রায় ১০ হাজার টাকা।’
ঘোগোমালির নিউ বয়েজ ক্লাবেও এবছর এআই দিয়ে নির্মিত বাচ্চার মুখের আদলে তৈরি মূর্তি দিয়েই পুজো হবে। ক্লাবের তরফে রাজ আর্য বলছিলেন, ‘এটা এখন ট্রেন্ডি। এমন মূর্তির পুজোমণ্ডপে খুব ভাইরাল হচ্ছে তাই আমরা এমন আদলেই মূর্তি তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
