বর্ধমান: হাইটেক জমানার টুকলি! চিরাচরিত কাগজের টুকরো নয়, এবার মাধ্যমিক পরীক্ষায় (Madhyamik Examination 2026) খোদ ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বা এআই (AI Dishonest) ব্যবহার করে টুকলি করতে গিয়ে ধরা পড়ল তিন পরীক্ষার্থী। বুধবার পূর্ব বর্ধমান জেলার তিনটি পৃথক কেন্দ্র থেকে মোবাইলসহ ওই তিনজনকে হাতেনাতে পাকড়াও করেন পরীক্ষকরা। মধ্যশিক্ষা পর্ষদের নিয়ম অনুযায়ী, ওই তিন পরীক্ষার্থীর এ বছরের পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে।
পর্ষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের মধ্যে একজন গলসির কালীমতি দেবী স্কুলের ছাত্র। গলসির সাঁকোর স্কুলের কেন্দ্রে বসে প্রশ্নপত্রটি মোবাইলে স্ক্যান করে একটি এআই অ্যাপের মাধ্যমে উত্তর সংগ্রহ করছিল সে। পরীক্ষক বিষয়টি দেখে ফেলায় ধরা পড়ে যায় ওই ছাত্র। একইভাবে রায়নার উচালন হাইস্কুলে ধরা পড়েছে সেহারাবাজার সি.কে স্কুলের এক পরীক্ষার্থী। অন্যদিকে, কাটোয়া দুর্গাদাসী চৌধুরানি বালিকা বিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিতে বসে মোবাইলসহ ধরা পড়ে কাটোয়া কে.ডি ইনস্টিটিউটের এক পরীক্ষার্থী।
পরীক্ষকদের দাবি, এই পরীক্ষার্থীরা অত্যন্ত গোপনে মোবাইল নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করেছিল। এরপর এআই অ্যাপ ব্যবহার করে প্রশ্নপত্রের ছবি তুলে সরাসরি উত্তর বের করে নিচ্ছিল তারা। প্রযুক্তির এমন অপপ্রয়োগ দেখে অবাক শিক্ষা মহলও।
মাধ্যমিক পরীক্ষার কনভেনার অমিত কুমার ঘোষ বলেন, “পর্ষদের স্পষ্ট নির্দেশিকা রয়েছে যে মোবাইল বা কোনো ইলেকট্রনিক গ্যাজেট কেন্দ্রে আনা যাবে না। প্রবেশের সময় তল্লাশি সত্ত্বেও কেউ কেউ নজরদারির ফাঁক গলে মোবাইল নিয়ে ঢুকেছে। তাদের পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে।” এই ঘটনার পর জেলায় পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে নজরদারি আরও কঠোর করার দাবি জানানো হয়েছে।
