উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: নতুন করে ফের সীমান্ত সংঘর্ষে জড়াল আফগানিস্তান ও পাকিস্তান (Afghanistan-Pakistan Conflict)। বুধবার ভোরে পাকিস্তানের চামান (Chaman) জেলা এবং দক্ষিণ-পূর্ব আফগানিস্তানের স্পিন বোল্ডাক (Spin Boldak) জেলায় এই সংঘর্ষের ফলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনায় বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তবে পাকিস্তানি সেনা এবং তালিবান বাহিনী এই সংঘর্ষের জন্য একে অপরকেই দোষারোপ করেছে।
তালিবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, বুধবার ভোরে আফগানিস্তানের কান্দাহার এবং পাকিস্তানের বালোচিস্তানের মধ্যবর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত জেলা স্পিন বোল্ডাকে ফের হামলা চালায় বোল্ডাকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। তাতে কমপক্ষে ১২ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ১০০ জনেরও বেশি। এরপরই তালিবান বাহিনীও ‘প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ’ নিতে বাধ্য হয়েছে। মুজাহিদের দাবি, আফগানিস্তানের পালটা গুলিতে ‘বিপুল সংখ্যক’ পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে। সেই সঙ্গে পাকিস্তানের সেনার অস্ত্র, ট্যাংক বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং পাকিস্তানি সেনাঘাঁটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি।
অন্যদিকে ইসলামাবাদের দাবি, কোনও উসকানি ছাড়াই পাকিস্তানি সেনাদের ঘাঁটি লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করেছে তালিবান। পালটা জবাবে তালিবানের ট্যাংক, সামরিক ঘাঁটি এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্রও ধ্বংস হয়ে গিয়েছে বলে দাবি পাক সেনার। এদিন সংঘর্ষটি প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলে বলে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার রাতে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় হামলার খবর সামনে এসেছিল। এর জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করেছিল তালিবান। যদিও সেই হামলার কথা স্বীকার করেনি ইসলামাবাদ। এরপরেই শনিবার পালটা পাকিস্তানের সীমান্ত উত্তেজনার খবর সামনে আসে। আফগানিস্তানের তরফে দাবি করা হয়েছিল, এই সংঘর্ষে ৫৮ পাক সেনার প্রাণ গিয়েছে। আহত হয়েছেন ৩০ জন। অন্যদিকে পাকিস্তান দাবি করেছিল, ২০০ জনেরও বেশি আফগান সেনার মৃত্যু হয়েছে এই সংঘর্ষে। সম্প্রতি কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যে এই উত্তেজনা সারা বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
