উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ নিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। ভোটার তালিকায় গুরুতর অনিয়ম, দায়িত্বজ্ঞানহীনতা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের ৭ জন এএইআরও (AERO Suspension)-র বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। রাজ্যের মুখ্যসচিবের কাছে পাঠানো চিঠিতে তাঁদের অবিলম্বে সাসপেন্ড করার পাশাপাশি বিভাগীয় তদন্ত শুরু করতে বলা হয়েছে।
রাজ্যের ছয়টি বিধানসভা কেন্দ্রের মোট সাতজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তালিকায় রয়েছেন:
- ক্যানিং পূর্ব: সত্যজিৎ দাস এবং জয়দীপ কুণ্ডু (এই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও আগে পদক্ষেপ না করায় ফের কড়া বার্তা দিয়েছে কমিশন)।
- সুতি (মুর্শিদাবাদ): শেখ মুর্শিদ খান।
- সামশেরগঞ্জ: সেফাদুর রহমান।
- ফরাক্কা: নীতিশ দাস।
- ময়নাগুড়ি: ডালিয়া রায়চৌধুরি।
- ডেবরা: দেবাশিস বিশ্বাস।
শুক্রবারই দিল্লির নির্বাচন সদনে তলব করা হয়েছিল রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে। ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা বাদ দেওয়া সংক্রান্ত এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। কমিশনের দাবি, অভিযুক্ত আধিকারিকরা তাঁদের আইনি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। চিঠিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ক্যাডার কন্ট্রোলিং অথরিটিকে দ্রুত এই তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে এবং তদন্তের প্রতিটি অগ্রগতি কমিশনকে নিয়মিত জানাতে হবে।
ভোটার তালিকায় নাম সংশোধন ও সংযোজন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধীরা সরব ছিল। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই শুক্রবার বিকেলে দিল্লি গিয়েছিলেন মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী। সেখানে দীর্ঘক্ষণ শুনানির পর কমিশন নিশ্চিত হয়েছে যে, কর্তব্যে গাফিলতি হয়েছে। এর পরেই এই সাত আধিকারিকের নাম উল্লেখ করে কড়া চিঠি পাঠানো হয় নবান্নে।
