অরিন্দম বাগ ও বিশ্বজিৎ প্রামাণিক, মালদা ও পতিরাম: ১৬ বছরেই গর্ভবতী হয়ে পড়েছিল কিশোরী। কোনওভাবে বাচ্চা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় গর্ভপাত করানো হয়েছিল তাঁর। গতকাল দুপুরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়ে মৃত্যু হল কিশোরীর। মৃতদেহটিকে ময়নাতদন্তে পাঠিয়ে এই ঘটনায় ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্ত শুরু করা হয়েছে। মৃত কিশোরী কালিয়াচকের বাসিন্দা।
৬ মাস আগে প্রেমের সম্পর্ক থেকে ওই কিশোরীর বিয়ে হয়। আপাতত চার মাসের গর্ভবতী হয়ে পড়েছিল সে। অভিযোগ, কয়েকদিন আগেই মালদা শহরের একটি নার্সিংহোমে ওই নাবালিকাকে গর্ভপাত করানো হয়। গতকাল দুপুরে ওই নাবালিকার শ্বাসকষ্ট হতে শুরু করে। পরিবারের সদস্যরা তড়িঘড়ি ওই কিশোরীকে প্রথমে রতুয়া গ্রামীণ হাসপাতাল ও পরে মালদা মেডিকেলে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তে পাঠিয়ে আপাতত একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি নিয়ে পরিবারের সদস্যরা কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। এহেন ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের বাল্যবিবাহ রোধে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এমন ঘটনা শুধু একই জায়গায় নয়, আশপাশের গ্রামগুলিতেও লুকিয়ে ঘটেই চলেছে। প্রশাসন স্কুল, পঞ্চায়েত, ব্লক স্তরে বাল্যবিবাহ রোধে এবং কম বয়সে মা হওয়ার কুফল সম্পর্কে সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালালেও বাস্তবে তেমন সুফল মিলছে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কম বয়সে গর্ভধারণের কারণে প্রসূতি ও শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে অপুষ্টি, বিশেষভাবে সক্ষম ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাসের মতো মারাত্মক ঝুঁকিও দেখা দেয়।
অন্যদিকে, পতিরামে নাবালিকার স্বামী মিনারুল শেখের আগের পক্ষের স্ত্রী অন্যত্র চলে যাওয়ায়, মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানের সাড়ে ১৩ বছরের এক নাবালিকাকে তিনি বিয়ে করেন। চোদ্দো বছরে পা দেওয়ার আগেই সে গর্ভবতী হয়ে পড়ে। বর্তমানে প্রায় পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এই খবর কানে যায় স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের। তাঁরা ওই নাবালিকার বাড়িতে পৌঁছে তাকে কম বয়সে মা হওয়ার শারীরিক ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করার চেষ্টা করেন।
স্বাস্থ্য দপ্তরের এক কর্মী বলেন, ওই গর্ভবতী নাবালিকাকে হাসপাতালে পাঠিয়ে সব ধরনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়েছে। কী হবে বলা মুশকিল। আমরা রীতিমতো উদ্বেগে রয়েছি। বলতে পারব না। আমাদের ঘুম উড়েছে।’ চোদ্দো বছরের এক নাবালিকার গর্ভধারণের খবরে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে স্বাস্থ্যমহলে।
নিবেদতা গার্লস হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সোমা ভাদুড়ির বক্তব্য, ‘আবেগকে ধরে রাখার শিক্ষা কিংবা প্রয়োজনীয়তা তারা অনুভব করতে পারছে না। বাল্যবিবাহের মতো ঘটনা রুখতে প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও আরও সচেতন হতে হবে।’
