কলকাতা: ইডির হানা কি নিছকই আর্থিক দুর্নীতির তদন্ত? নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে এক গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র? আইপ্যাকের (I-PAC) দপ্তর এবং সংস্থার শীর্ষকর্তা প্রতীক জৈনের বাড়িতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) তল্লাশি অভিযানকে কেন্দ্র করে এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুললেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। এই ঘটনাকে তিনি কেবল ‘প্রতিহিংসা’ নয়, বরং বিজেপির ‘রাজনৈতিক গুপ্তচরবৃত্তি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
কয়লা তদন্ত নাকি ডেটা চুরি?
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যের নির্যাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তিনি ইডির এই অভিযানকে ‘কয়লা পাচার মামলা’র মোড়কে আসলে তৃণমূলের ‘স্ট্র্যাটেজি চুরির’ চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। তাঁর যুক্তি, আইপ্যাক কোনো সরকারি সংস্থা নয়, তারা রাজনৈতিক পরামর্শদাতা। তাদের সার্ভারে থাকে দলের নির্বাচনী সমীক্ষা, বুথভিত্তিক দুর্বলতা-সবলতার খতিয়ান এবং প্রচারের আগাম ব্লু-প্রিন্ট। অভিষেকের দাবি, ইডি তল্লাশির নামে ল্যাপটপ ও ফোন বাজেয়াপ্ত করে আসলে এই মহামূল্যবান ‘ডিজিটাল সম্পদ’ বা তথ্যই বিজেপির হাতে তুলে দিতে চাইছে।
বিজেপির ‘ভয়’ ও দেউলিয়াপনা:
ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, বিজেপি বুঝে গিয়েছে যে রাজনৈতিকভাবে তৃণমূলকে মোকাবিলা করা বা জনসমর্থনে টেক্কা দেওয়া তাদের পক্ষে অসম্ভব। তাই তারা এখন দলের ‘মস্তিষ্ক’ বা থিংক-ট্যাঙ্ক হিসেবে পরিচিত আইপ্যাকের ওপর আঘাত হেনেছে। অভিষেকের কথায়, “যাঁরা রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া, তাঁরাই এজেন্সিকে কাজে লাগিয়ে বিপক্ষের কৌশল জানার চেষ্টা করে।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, একটি কনসালটেন্সি ফার্মের সঙ্গে কয়লা কেলেঙ্কারির কী সম্পর্ক থাকতে পারে? এটি যে আসলে ভোটের আগে তৃণমূলের ওয়ার-রুমে আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা, তা তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট।
ভবিষ্যৎ সংঘাতের ইঙ্গিত:
অভিষেক হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন, তৃণমূল বা তাদের সহযোগী সংস্থাকে এভাবে ধমকে বা চমকে দমানো যাবে না। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ঘটনার পর ২০২৬-এর নির্বাচনের লড়াই আর শুধু ময়দানে সীমাবদ্ধ থাকল না, তা পৌঁছে গেল ‘তথ্য ও প্রযুক্তি’র লড়াইয়ে। অভিষেক এই হানাকে বিজেপির ‘নার্ভাসনেস’ বা স্নায়ুর চাপ হিসেবেই দেখছেন, যা বুঝিয়ে দিচ্ছে তৃণমূলের কৌশল নিয়ে কতটা চিন্তিত গেরুয়া শিবির।
