সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: দেশজুড়ে ধারাবাহিক হামলার পাশাপাশি ভয়ংকর ষড়যন্ত্রের ছক কষেছিল দিল্লি বিস্ফোরণের আত্মঘাতী জঙ্গি উমর-উল-নবি ওরফে উমর মহম্মদ এবং তার দল। আর সেই কারণেই গত এক বছর ধরে তারা ‘আত্মঘাতী বোমারু’ বা ‘সুইসাইড বম্বার’ খুঁজছিল। দিল্লি বিস্ফোরণের তদন্ত নেমে এমনটাই জানাচ্ছেন গোয়েন্দারা।
দিল্লি বিস্ফোরণের পরই ‘হোয়াইট কলার’ জঙ্গি মডিউল বা ‘চিকিৎসক জঙ্গি’ মডিউলটির একাধিক কার্যকলাপ প্রকাশ্যে এসেছে। এই সন্ত্রাসী মডিউলটির নেতৃত্ব ছিল একদল চিকিৎসক। আর এই মডিউলটির অন্যতম মাথা ছিল ঘাতক গাড়ির চালক উমর। গত এক বছর ধরে তারাই আত্মঘাতী বোমারু খুঁজছিল। দিল্লি বিস্ফোরণের পর একাধিক চিকিৎসক গ্রেপ্তার হয়েছেন। সূত্রের খবর, তাঁদের মধ্যে একজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই এই তথ্য জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও জানা গিয়েছে, উমর কট্টর মৌলবাদী ছিল। তারই পরিকল্পনা ছিল দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের। আর তার জন্যই দরকার ছিল ‘সুইসাইড বম্বার’দের।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় ধৃত ওই চিকিৎসক আরও জানিয়েছে, গত বছর অক্টোবর মাসে জম্মু ও কাশ্মীরের কুলগামে একটি মসজিদে তার সঙ্গে প্রথম এই সন্ত্রাসী মডিউলটির দেখা হয়। সেখান থেকে তাকে হরিয়ানার ফরিদাবাদের আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ভাড়া বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তাকে জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহাম্মদের ওভার-গ্রাউন্ড কর্মী হিসাবে কাজ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, উমর তাকে আত্মঘাতী বোমারু হতে রাজিও করিয়েছিলেন। চলেছিল দীর্ঘ মগজধোলাই।
সূত্রের খবর, গত এপ্রিল মাসে প্রাথমিকভাবে দিল্লিতে এই হামলার পরিকল্পনা হয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সেই পরিকল্পনা থেকে পিছিয়ে আসে ধৃত ওই চিকিৎসক। তদন্তকারীদের অনুমান, সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পরই ডিসেম্বরে দিল্লিতে হামলার ষড়যন্ত্র করে এই সন্ত্রাসী মডিউল।
