৭ মার্চ। প্রভাত রায়ের জন্মদিন। আর এই বিশেষ দিনেই দর্শক-অনুরাগীদের জন্য ‘রিটার্ন গিফট’ নিয়ে হাজির তিনি। এগারো বছর বাদে শুটিং ফ্লোরে ক্ল্যাপস্টিক হাতে নামতে চলেছেন পরিচালক। প্রভাত রায় যে ফ্লোরে প্রত্যাবর্তন করতে চলেছেন একতা ভট্টাচার্য আগেই সেখবর ভাগ করে নিয়েছিলেন। এবার সেই সিনেমার আনুষ্ঠানিক হল। রবি ঠাকুরের ছোটগল্প ‘বলাই’ অবলম্বনে স্বল্পদৈর্ঘ্যর ছবি পরিচালনা করতে চলেছেন বর্ষীয়াণ পরিচালক। কাস্টিংয়েও চমক!
আরও পড়ুন:
মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করবেন কৌশিক সেন, বাসবদত্তা চট্টোপাধ্যায়, অনুজয় চট্টোপাধ্যায় ও ফাল্গুনী চট্টোপাধ্যায়কে। প্রযোজনায় এমআরজে ফিল্মস-এর কর্ণধার ড. মনোরঞ্জন জেনা। সঙ্গীতের দায়িত্বে কবীর সুমন। প্রভাত রায়ের ‘বলাই’ ছবির চিত্রনাট্য এবং সংলাপ লিখেছেন একতা। অভিনেতা নির্বাচনের নেপথ্যেও তিনি। পোশাক পরিকল্পনায় সাবর্ণী দাস এবং শিল্প নির্দেশনায় রয়েছেন তন্ময় চক্রবর্তী। বইয়ের পাতা থেকে ‘বলাই’কে সিনেমার আকারে নিয়ে আসার পরিকল্পনা কেমনভাবে হল? এপ্রসঙ্গে প্রভাত রায় বলছেন, “৮২ বছর বয়সে এসে আমি এমন একটি গল্প নিয়ে ছবি করতে চাইছিলাম, যার সঙ্গে মানুষ সহজেই আত্মীকরণ করতে পারে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বলাই’ এমনই একটি গল্প, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাঙালি পাঠকের মনের মণিকোঠায় রয়েছে। বহু বছর ধরে এটি স্কুলের পাঠ্যসূচিরও অংশ।” তবে এই সিনেমা তৈরির নেপথ্যে আরেকটি মজার কারণও ভাগ করে নিলেন প্রবীণ পরিচালক।


“তিন বছর আগে আমার শারীরিক অবস্থা যা হয়েছিল, মনে হয়েছিল, আর বেশিদিন বাঁচব না। কিন্তু একতা আমার জীবনে সন্তান রূপে আশীর্বাদের মতো এসে যেন সবকিছু বদলে দিল। আমি শেষবার ছবি করেছিলাম এগারো বছর আগে। কোথাও না কোথাও আমার মনে আবারও সেটে ফিরে যাওয়ার একটি ইচ্ছে রয়ে গিয়েছিল। হয়তো এটিই আমার শেষ চলচ্চিত্র হতে পারে, তাই আমি এটিকে যতটা সম্ভব ভালোভাবে করার চেষ্টা করতে চাই।”
প্রভাত রায় জানালেন, “একদিন আমি আমার মেয়ে একতা কফি খেতে খেতে গল্প করছিলাম। কথার ফাঁকে ও আমাকে সংক্ষেপে গল্পটি শোনায় এবং বলে যে এটি একটি খুব সুন্দর সিনেমা হতে পারে। প্রায় স্বতঃস্ফূর্তভাবেই আমি ওকে বলেছিলাম— ‘তুমি স্ক্রিপ্টটা লেখো এবং সবকিছু ব্যবস্থা করে দাও, আমি ছবিটি পরিচালনা করব।’ যেহেতু এটি মেয়ের সবচেয়ে প্রিয় গল্প, ও ভীষণ খুশি হয়েছিল এবং খুব মন দিয়ে চিত্রনাট্য লিখেছে। ‘বলাই’ অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি গল্প। সেসময় থেকেই আমরা প্রায় প্রত্যেকদিনই ছবির সমস্ত দিক নিয়ে আলোচনা করে চলেছি। নতুন প্রজন্মের অনেক অভিনেতা ও টেকনিশিয়ানদের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগতভাবে পরিচয় নেই, কিন্তু একতা আমাকে তাদের অনেকের সঙ্গেই পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। তাদের সঙ্গে কাজ করার জন্য আমি সত্যিই খুব উদগ্রীব।”


আরও পড়ুন:
জানা গেল, প্রভাতবাবু চেয়েছিলেন একতা এই সিনেমার সহ-পরিচালক হিসেবে থাকুন। কিন্তু তাতে রাজি হননি তিনি। পরিচালক বলছেন, “তিন বছর আগে আমার শারীরিক অবস্থা যা হয়েছিল, মনে হয়েছিল, আর বেশিদিন বাঁচব না। কিন্তু একতা আমার জীবনে সন্তান রূপে আশীর্বাদের মতো এসে যেন সবকিছু বদলে দিল। ঠিক যেমন ছোট্ট বলাইয়ের জীবনে হঠাৎ করে শিমুল গাছটি উপস্থিত হয় একটি সতেজ বাতাসের মতো, যা তাকে দেয় সান্ত্বনা, বন্ধুত্ব আর সঙ্গ। এই তিন বছরে একতা আমার অনেক ইচ্ছা ও স্বপ্ন পূরণ করেছে। তবু কোথাও না কোথাও আমার মনে আবারও সেটে ফিরে যাওয়ার একটি ইচ্ছে রয়ে গিয়েছিল। আমি শেষবার ছবি করেছিলাম এগারো বছর আগে। আর এখন আমার মেয়ে আবার সেই স্বপ্ন পূরণে আমাকে সাহায্য করছে। আমার কাছে এটি যেন জন্মদিনের সবচেয়ে বড় উপহার। ছবিটি বর্তমানে প্রি-প্রোডাকশনের পর্যায়ে রয়েছে। আর এই পুরো প্রক্রিয়াটি আমাকে সেই পুরোনো দিনের কাজের স্মৃতিগুলো আবার মনে করিয়ে দিচ্ছে। হয়তো এটিই আমার শেষ চলচ্চিত্র হতে পারে, তাই আমি এটিকে যতটা সম্ভব ভালোভাবে করার চেষ্টা করতে চাই। “
সর্বশেষ খবর
