স্ক্রিনিং কমিটির সদস্য হিসেবে রানার বিরূপ মন্তব্যে ধিক্কার পিয়ার! পালটা জবাব প্রযোজকেরও

স্ক্রিনিং কমিটির সদস্য হিসেবে রানার বিরূপ মন্তব্যে ধিক্কার পিয়ার! পালটা জবাব প্রযোজকেরও

বৈশিষ্ট্যযুক্ত/FEATURED
Spread the love


বুধ সন্ধ্যায় ইম্পার অফিসে স্ক্রিনিং কমিটির জরুরি বৈঠক হয়ে গেল। উদ্দেশ্য একটাই, বছেরর বাহান্ন সপ্তাহেই প্রেক্ষাগৃহ আলো করে থাকুক বাংলা সিনেমা। মাস খানেক ধরেই বাংলা সিনেমার রিলিজ নিয়ে সেলেপ পাড়ার কেউ কাউকে সূচাগ্র মেদিনী ছাড়তে নারাজ! মীমাংসার জন্যেই এই কমিটি গঠন। সম্প্রতি মুক্তির তারিখ ঘিরে অনিশ্চয়তার কারণে হল বন্ধের খবর প্রকাশ্য এসেছিল। যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল সিনেমহল। বুধবার ইম্পার অফিসে সংশ্লিষ্ট ইস্যু নিয়েই বৈঠক হয়। যেখানে ইম্পা সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত, ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস-সহ সিনেপাড়ার তাবড় প্রযোজক, এক্সবিউটররাও উপস্থিত ছিলেন। সেখানেই প্রযোজক রানা সরকারের সাম্প্রতিক এক পোস্ট ঘিরে বিতর্ক! স্ক্রিনিং কমিটির সদস্য হিসেবে বিরূপ মন্তব্যের জেরে এদিনের মিটিংয়ে তাঁকে ‘ধিক্কার’ জানানো হয়।

“মানুষ খেতে পাচ্ছে না, আর তারা রাজনীতি করতে যাবে বলে মনে হয়? খাদ্য না পেলে রাজনীতি করবে কীভাবে? স্ক্রিনিং কমিটির সদস্য হিসেবে আশা করিনি যে উনি এমন একটা পোস্ট করবেন। মিটিংয়ে এই ঘটনাকে আমরা ধিক্কার জানাচ্ছি।”- পিয়া সেনগুপ্ত। 

আরও পড়ুন:

ঠিক কী ঘটেছে? গতমাসেই বাংলা সিনেমার অভাবে শহরের অতিপরিচিত চার প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ থাকার কথা শোনা গিয়েছিল। সেসময়ে অনেকেই বাংলা সিনেমার কন্টেন্ট এবং রিলিজের নিয়ে ইন্ডাস্ট্রির অন্তর্দ্বন্দ্বকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছিলেন। এমন আবহে রানা সরকার একটি পোস্ট করেন। যেখানে লেখা ছিল, “হল বন্ধ রাখা কারও ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত হতেই পারে, কিন্তু তার জন্যে বাংলা সিনেমাকে দোষ দেওয়া অর্থহীন! এর পিছনে কে আছে? ভোটের আগে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র।” বুধের বৈঠকে সেপ্রসঙ্গ টেনেই বুধবার স্ক্রিনিং কমিটির মিটিংয়ে পিয়া সেনগুপ্ত বলেন, “মানুষ খেতে পাচ্ছে না, আর তারা রাজনীতি করতে যাবে বলে মনে হয়? খাদ্য না পেলে রাজনীতি করবে কীভাবে? স্ক্রিনিং কমিটির সদস্য হিসেবে আশা করিনি যে উনি এমন একটা পোস্ট করবেন। মিটিংয়ে এই ঘটনাকে আমরা ধিক্কার জানাচ্ছি।” বৈঠকের পর কমিটির তরজা গড়াল সোশাল পাড়া পর্যন্ত।

“যেভাবে দেব-কে অপমান করা হয়েছে খুলে বলবো নাকি এড়িয়ে যাব? যেভাবে নিজের ছেলের সিনেমা চালানোর জন্য সিনেমা হল মালিকদের থ্রেট করেছেন সেটা বলবো? নাকি এটাও এড়িয়ে যাব?” – রানা সরকার 

পিয়ার মন্তব্যের প্রেক্ষিতে রানা সরকার পালটা ফেসবুকে লেখেন, “স্ক্রিনিং কমিটির প্রেসিডেন্ট হওয়া সত্ত্বেও পিয়া সেনগুপ্ত সাম্প্রতিক অতীতে যা যা পক্ষপাতিত্ব করেছেন সেটাকেও কি তীব্র ধিক্কার জানাবো নাকি এড়িয়ে যাব? যেভাবে দেব-কে অপমান করা হয়েছে খুলে বলবো নাকি এড়িয়ে যাব? যেভাবে নিজের ছেলের সিনেমা চালানোর জন্য সিনেমা হল মালিকদের থ্রেট করেছেন সেটা বলবো? নাকি এটাও এড়িয়ে যাব? স্ক্রিনিং কমিটির ভেতরের কথা বাইরে প্রকাশ করে দিচ্ছে,ত তার দায় স্ক্রিনিং কমিটির প্রেসিডেন্টের, সেটাকে কি ধিক্কার জানাবো না এড়িয়ে যাব?” তবে এদিনের মিটিংয়ে আবারও বাংলা সিনেপাড়ার তারকা, প্রযোজকদের বছরভরের জন্য সিনেপুঁজি রাখার বার্তা দেন পিয়া সেনগুপ্ত।

বৈঠক শেষে ইম্পা সভাপতি পিয়া জানান, “এক্সবিউটরদের তরফ থেকে আমাদের একটি চিঠি দেওয়া হয়েছিল, কয়েক সপ্তাহ আগে বড় কিছু সিনেমাহল কর্তৃপক্ষ প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছিল কারণ, তাঁদের কাছে বাংলা সিনেমা চালানোর কন্টেন্ট ছিল না। যে ছবিই চলছিল, হলে দর্শক কম হচ্ছিল। সেই মর্মেই স্ক্রিনিং কমিটিকে তাঁরা একটি চিঠি দেয়। আজকের মিটিংয়ে তাদের একটাই বক্তব্য, টলিপাড়ার যাঁরা তাবড় তারকা-প্রযোজকরা রয়েছেন, তাঁরা সিনেমা রিলিজের জন্য উৎসব মরশুম বেছে নিচ্ছেন। বা ছবিমুক্তির ক্ষেত্রে প্রাইম ডেট নিয়ে তাঁরা মাতামাতি করছেন। একই দিনে তিনটে, চারটে করে সিনেমা রিলিজ হচ্ছে। তাহলে বছরের ৫২ সপ্তাহে এক্সবিউটর এবং হল কর্তৃপক্ষের কাছে দর্শকদের জন্য কোনও ছবি সংগ্রহে থাকছে না। ফলত তাঁদের হল বন্ধ রাখতে হচ্ছে। তারা যথাযথ কন্টেন্ট পাচ্ছেন না। তাই তাঁদের অনুরোধ, সারাবছরের বাংলা সিনেমার তালিকা যেন ৫২ সপ্তাহের কথা মাথায় রেখেই তৈরি হয়। যেমন পুজোতে কোনও বড় স্টারের ছবি আসবে, তেমন এই নন-প্রাইম টাইমেও তারকারা সিনেমা রিলিজ করুক। তাহলে অন্তত হলগুলো চলবে। বাংলা সিনেইন্ডাস্ট্রিও বাঁচবে। তাই স্ক্রিনিং কমিটির কাছে আমাদের অনুরোধ, বাংলা ছবি প্রাইম ডেট এবং উৎসবের মরশুম ছাড়াও সারাবছর চলুক।”

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *