সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সিন্ধু জলচুক্তি পুনর্বহাল না করলে পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করবে। সোমবার এমনই হুঁশিয়ারি দিলেন প্রাক্তন পাক বিদেশমন্ত্রী তথা পাকিস্তান পিপলস পার্টির প্রধান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি। প্রসঙ্গত, শনিবারই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ হুঙ্কার দিয়েছিলেন, “সিন্ধু জলচুক্তি আর কখনই চালু করা হবে না। কারণ, প্রতিবেশী দেশটি চুক্তির শর্তাবলী লঙ্ঘন করেছে। ওদের এবার শুকিয়ে মরতে হবে।” শাহের এই মন্তব্যরই এবার পালটা দিলেন ভুট্টো।
সোমবার পাকিস্তানের পার্লামেন্টে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “ভারতের সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিতের সিদ্ধান্ত বেআইনি। অবিলম্বে এই চুক্তি পুনর্বহাল করতে হবে। যদি নয়াদিল্লি তা না করে, তাহলে পাকিস্তান সিন্ধু-সহ ছ’টি নদীর জল ছিনিয়ে আনবে। সেক্ষেত্র যদি যুদ্ধে যেতে হয়, ইসলামাবাদ তার জন্যও প্রস্তুত।” তিনি আরও বলেন, “যদি ভারত ও পাকিস্তান আলোচনায় না বসে এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে দু’দেশের মধ্যে যদি কোনও সমন্বয় না থাকে, তাহলে উভয় দেশেই হিংসা আরও তীব্র হবে।”
প্রসঙ্গত, ১৯৬০ সালে বিশ্ব ব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় সিন্ধু জলচুক্তি সই করে ভারত ও পাকিস্তান। চুক্তি অনুযায়ী, বিতস্তা ও চন্দ্রভাগার জলের উপরে পাকিস্তানের অধিকার ৮০ শতাংশ, ভারতের ২০ শতাংশ। তবে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ভারত ওই জল ব্যবহার করলেও তা আটকাতে পারবে না পাকিস্তান। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই নয়াদিল্লির দাবি ছিল, সিন্দু জলচুক্তিতে সংশোধন করতে হবে। কারণ ভারতের নদীবাঁধ দেওয়া ইসলামাবাদের প্রবল আপত্তি। এই নিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নালিশ জানানো পাকিস্তানের কূটনৈতিক কৌশল হয়ে ওঠে। গতবছর সেপ্টেম্বর মাসে এই চুক্তিতে সংশোধন চেয়ে ইসলামাদকে কড়া নোটিসও পাঠায় ভারত। তবে পহেলগাঁও হামলার পরে সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে চরম পদক্ষেপ করেছে ভারত। ভারতের এই পদক্ষেপকে যুদ্ধ ঘোষণার সমকক্ষ বলে আগেই তোপ দেগেছে পাকিস্তান। আর এবার এই ইস্যুতে ফের হুঙ্কার শোনা গেল পাকিস্তানের প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রীর গলায়। যদিও শনিবার শাহ তাঁর ভাষণে সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে ভারতের অবস্থান সরাসরি বুঝিয়ে দিয়েছেন। এখন দেখার আগামী দিনে এই জল কতদূর গড়ায়।
